‘মুজিববর্ষে’ই কুতুবদিয়াবাসি পাবেন টেকসই বেড়িবাঁধ

‘মুজিববর্ষে’ই কুতুবদিয়াবাসি পাবেন টেকসই বেড়িবাঁধ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কুতুবদিয়া দ্বীপের মানুষ বেড়িবাঁধ নিয়ে বছরের পর বছর কষ্টে আছেন। নানা কারণে এতদিন কাজে ধীরগতি থাকলেও এখন দ্রুতগতিতে কাজ এগুচ্ছে। ‘মুজিববর্ষে’ই কুতুবদিয়া দ্বীপবাসী টেকসই বেড়িবাঁধ উপহার পাবেন। কাউকে আর রাত জেগে সাগরের জোয়ার পাহারা দিতে হবে না। বেড়িবাঁধের দুর্ভোগ সম্পূর্ণ লাঘব হবে।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন অংশের বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের এই প্রতিশ্রুতি দেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

তিনি বলেন, ঠিকাদার পরিবর্তনের কারণে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। এখন নতুন ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। তারা দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বীপের ১৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ মুজিববর্ষেই শেষ করতে সক্ষম হবো। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি হয়। আমরাও এর বাইরে নয়। তবে দেশের অর্থনীতি এখন ১০ বছর আগের অবস্থায় নেই। অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। আগে অর্থ সংকটের কারণেও কাজ বন্ধ রাখতে হতো। কিন্তু এখন সেই অবস্থা নেই, অর্থ সংকট হবে না। জোয়ারের পানির সাথে দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম আর দুর্ভোগ এবার সম্পূর্ণ লাঘব হবে।

পানি উন্নয়নের বোর্ডের তথ্য মতে, কক্সবাজার জেলায় ৩৬৩ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তৎমধ্যে কুতুবদিয়ায় ১০০ কোটি টাকার কাজ হচ্ছে। কুতুবদিয়াতে ১৩.৮৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে ৪ কিলোমিটারে সিসি-ব্লক বসানো হবে।

পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি।

প্রতিমন্ত্রী দুপুর ১২টায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে সাগরপথে কুতুবদিয়ায় রওনা দেন। সেখানে উত্তর ধুরুংয়ের কায়সার পাড়ার খোলা বেড়িবাঁধ, আলী আকবর ডেইল জেলেপাড়ার নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন।

আলী আকবর ডেইল জেলেপাড়ার নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ পরিদর্শনের পর সেখানকার স্থানীয় মানুষের সাথে পথসভা করেন। পথসভায় প্রতিমন্ত্রী দ্বীপবাসীকে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।

পথসভায় প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর।

সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, যুগ যুগ ধরে দ্বীপের মানুষ সাগরের সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছেন। অমাবস্যার জোয়ারের সময় লোকালয় পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। স্থায়ী বেড়িবাঁধের অভাবে এখানকার মানুষের দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বীপবাসীর দুঃখ-দুর্দশা বুঝেন। তাই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ১৯৯৬ সালে প্রথম সিসি-ব্লক বসিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। বর্তমানে যেভাবে কাজ এগুচ্ছে, চলতি বছরেই টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হবে। একবছর পর জোয়ারের আর এক ফোঁটা পানিও লোকালয়ে ঢুকবে না। দ্বীপবাসী সম্পূর্ণ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রী স্থল ছাড়াও স্পীডবোট যোগে কুতুবদিয়া দ্বীপ এবং মহেশখালীর মাতারবাড়ির নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন।