ঈদগাঁও বাজার থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ‘অপহৃত’, মহিলা মেম্বার ও ছেলে আটক

আশুলিয়ায় অপহৃত ছাত্রী ৬ দিন পর কক্সবাজারে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈদগাঁও
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ঈদগাঁও বাজার থেকে আসমীর নুর জয় নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্য দিবালোকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে! এই অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য (মহিলা মেম্বার) ও তার ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। ওই সময় অপহৃত আসমীর নুর জয়কেও উদ্ধার করা হয়।

‘অপহৃত’ জয় ঈদগাঁও ভোমরিয়া ঘোনা এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে এবং ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের (কেজি স্কুল) ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

পুলিশের হাতে আটক মা ও ছেলে হলেন স্থানীয় মাইজ পাড়া এলাকার শফিক আহমদের স্ত্রী, মহিলা মেম্বার নুরজাহান ওরফে হৃীলা মেম্বার ও ছেলে ছায়েদুর রহমান (২০)।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঈদগাঁও বাজারস্থ মেডিকেল সেন্টার নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের সামনে থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ‘অপহরণ’ করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ‘অপহৃত’ আসমীর নুর জয় তার বড় ভাইয়ের বউকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঈদগাঁও মেডিকেল সেন্টারে গেলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মহিলা মেম্বার ও তার ছেলের নেতৃত্বে আরও ৬/৭ জন অজ্ঞাত পরিচয় দূর্বৃত্ত্ব জয়কে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে মাইজপাড়া এলাকাস্থ মহিলা মেম্বারের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে জয়ের আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধুদের মাঝে সংবাদটি ছড়িয়ে পড়লে লোকজন ওই মেম্বারের বাড়িতে যান।

অপহৃত জয়ের চাচা ও যুবলীগ নেতা এনাম রনি দাবি করেন, ওই সময় জয়কে ছাড়িয়ে নিতে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

পরে খবর পেয়ে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মোঃ আসাদুজ্জামানের নির্দেশে এসআই আবু বকর ছিদ্দিক, এএসআই নিজাম উদ্দিনসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমীর নুর জয়কে উদ্ধার করেন।

‘অপহৃত’ জয়ের পরিবারের দাবি মতে পুলিশ ‘অপহরণে’ জড়িত সন্দেহে নুরজাহান ওরফে হৃীলা মেম্বার ও তার ছেলে ছায়েদুল ইসলামকে আটক করেন।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ধৃতরা তদন্ত কেন্দ্রের হেফাজতে রয়েছেন।

জয়ের অপর আত্মীয় যুবলীগ নেতা রাশেদ উদ্দিন রাশেল জানান, এই জঘন্যতম ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা করলে সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।