বাজারঘাটা নাপিতা পুকুর সংস্কারে ‘স্থিতাবস্থা’ দিলেন হাইকোর্ট

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) করা শহরের বাজারঘাটা নাপিতা পুকুর সংস্কার কাজ বন্ধ রাখতে ‘স্থিতাবস্থা’র আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

১৯ জানুয়ারী হাইকোর্টের বিচারপতি মাননুন রহমান ও খিজির হায়াতের দ্বৈত বেঞ্চ ওই স্থগিতাদেশ দেন। ওই আদেশের কপি ২৮ জানুয়ারী নোটিশ আকারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী, কক্সবাজার গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খান এন্ড সন্স বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়েছে।

জানা যায়, কক্সবাজার মৌজার জেএল-১৬, বিএস দাগ ৭০১৩ এবং বিএস খতিয়ান ১২৬০ এর বসতঘর ও নিজস্ব পারিবারিক পুরোনো ৭০/৮০ বছরের রাস্তাসহ মোট ৬৬০০ শতাংশ জায়গা রয়েছে, যা হাজী হাফেজ আহমদ চৌধুরী তার পিতা মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরীর পূর্ব পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে বংশ পরম্পরায় ভোগ দখল করে আসছেন। হাজী হাফেজ আহমদ চৌধুরী মারা গেলে তার সম্পত্তি ছেলে মেয়েরা পান। ওই জমি নাপিতা পুকুর সংলগ্ন। পরে ২০১১ সালে নাপিতা পুকুরের পশ্চিম পাশের জমি (পুকুর পাড়ের একটি অংশ) কক্সবাজার পৌরসভা থেকে লীজের জন্য আবেদন করা হলে কক্সবাজার মৌজার আরএস দাগ ১৮৮৯, পিএস দাগ ৩০১৫, বিএস দাগ ৭০১৪-৭০১৫ এর ৪০ ফুট বাই ২৫ ফুট = ১০০০ বর্গফুট জমি ৫০ হাজার টাকা লীজ মানি দিয়ে লিজ নেয়া হয়। ওই সময় সেই জমিতে দুইতলা ভবন করার জন্য কক্সবাজার পৌরসভা লে-আউট নকশাও অনুমোদন করে। সেই আলোকে অনেক টাকা ব্যয় করে সেখানে দ্বিতলা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।

সুত্র মতে, এই জমির পাশ দিয়ে ৫০/৬০টি পরিবারও বসবাস করেন। এসব পরিবারের মানুষ সেই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে আসছিলেন।

এদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নাপিতা পুকুরসহ শহরের ৩টি পুকুর সংস্কার কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার মধ্যে বাজারঘাটা এলাকায় ওই জমির পূর্ব পাশের নাপিতা পুকুর অবস্থিত।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ‘কোন রকম নোটিশ না দিয়ে’ কক্সবাজার পৌরসভা থেকে লিজ পাওয়া জমিতে স্থাপিত দ্বিতলা ভবনটি গত ১২ মে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ‘ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে’ গুড়িয়ে দেয়। সেই পুকুরের পশ্চিম পাশের ৭০-৮০ বছরের চলাচলের রাস্তাও পুকুর সংস্কার কাজে ঢুকিয়ে নেয়।

উচ্ছেদকৃত দ্বিতলা ভবনের নিচতলায় ফুলবাড়ি এন্ড ইভেন্টস, শাহী বিরিয়ানী হাউজ ও মাবুদ সুজ নামে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ছিল। এছাড়াও সেখানে সরকার ও বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট অনুমোদিত শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজ কল্যাণ সংস্থার আলাদা দু’টি কার্যালয়ও ছিল। পেছনে ছিল কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান বদির ব্যক্তিগত অফিস।

হঠাৎ করে দ্বিতল ভবনটি ভেঙ্গে দেয়ায় মালিকের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ওই সংস্থাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন হাফেজ আহমদ চৌধুরীর মেয়ে ও বর্তমানে ওই জমির মালিক খোদেজা আক্তার সাকেরুন্নেছা সাকী।

তার দাবি, এতে প্রায় ছয় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার পর জমি ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণের আবেদন করে খোদেজা আক্তার সাকেরুন্নেছা সাকী কক্সবাজার যুগ্ন জেলা জজ ১ম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (অপর-২৫২/২০১৯)। এটি এখন বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় তিনি পুকুরের সংস্কার কাজ বন্ধ করতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ২০১৯ সালের ২০ আগষ্ট আবেদন করেন। যা ওই বছরের ১২ নভেম্বর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা শুনানী গ্রহণ না করে পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করে কক্সবাজার যুগ্ন জেলা ১ম জজ আদালত। পরে তিনি হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করেন (৮৩/২০২০)।

ওই রিভিশন মামলায় গত ১৯ জানুয়ারী হাইকোর্ট বাজারঘাটার পুকুর সংস্কারের সকল কার্যক্রমের উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় খোদেজা আক্তার সাকেরুন্নেছা সাকী বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার মালিকানাধীন জমি ও স্থাপনা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কউক চেয়ারম্যান জোরপূর্বক নাপিতা পুকুর সংস্কার কাজে ঢুকিয়ে নিয়েছে। যা একটি স্বাধীন দেশে কখনও কাম্য নয়।

তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত আমি আইনী প্রক্রিয়ায় লড়ে যাব।