চীন থেকে দেয়া বাংলাদেশি মেয়ে দোলার ভিডিও বার্তায় কী আছে?

চীন থেকে দেয়া বাংলাদেশি মেয়ে দোলার ভিডিও বার্তায় কী আছে?

এ মুহূর্তে দেশে ফিরে দেশ ও পরিবারকে অজানা বিপদে না ফেলার জন্য চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন দেশটিতে অধ্যয়নরত শবনম জেবি দোলা। চীনের হোজোউ শহরের হোজোউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী দোলার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে। সিলেটের নাট্য সংগঠন ‘একদল ফিনিক্স’ এর সাবেক সদস্য দোলা বুধবার (২৯ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুকে টাইমলাইনে লাইভে এসে প্রায় ১৬ মিনিটের ভিডিও বার্তায় করোনাভাইরাসের কথা উল্লেখ করে এ আহ্বান জানান।

ফেসবুক লাইভে দোলা বলেন, ‘আমি জেনেছি চায়নায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অনেকে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ টিকিটও কিনে ফেলেছেন। তবে সবার প্রতি অনুরোধ, এই মুহূর্তে দেশে ফিরবেন না। এখানেই থাকুন। এখানে ভালো চিকিৎসা পাবেন। আপাতত দেশে গিয়ে দেশ ও নিজের পরিবারকে বিপদে ফেলবেন না। যারা দেশে যেতে চাচ্ছেন, তাদেরকে দ্বিতীয়বার ভাবার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

লাইভের শুরুতে শবনম বলেন, ‘চায়নার বর্তমান পরিস্থিতি কি তা সবাই জানেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে সুরক্ষিত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। হোজোউ সিটির সঙ্গে অন্য সিটিগুলোর যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা ডরমিটরিতে আছি। এখান থেকে কাউকে বাইরে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীদেরও ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু দিচ্ছে।’

শবনম বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ অন্যের পাশে গেলেই তিনি আক্রান্ত হতে পারেন। এর লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লুর মতো। তবে লক্ষণগুলো ধরা পড়তে ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। ফলে আক্রান্ত কারও শরীরে লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়ার আগেই তিনি অন্যকে সংক্রমিত করতে পারেন। আর এ কারণেই আতঙ্ক আরও বেশি। তাই চীন থেকে আক্রান্ত কেউ দেশে ফিরলে তিনি নিজের শরীরে লক্ষণ প্রকাশের আগেই অন্যকে সংক্রমিত করার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় চীনে থেকেই সচেতনভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার আরবান জানান শবনম।’

লাইভে শবনম আরও বলেন, ‘আমারও কিন্তু ভয় হচ্ছে। আমারও প্রতিদিন মনে হয় বাংলাদেশে চলে যাই। পরিবারের সঙ্গে থাকি। কিন্তু ভাবতে হবে, আমরা যে মানুষগুলোকে ভালোবাসি, আমাদের পরিবার, বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব; সেই প্রিয় মানুষদের নিজের অজান্তেই আমরা বিপদে ফেলে দিতে পারি। তাই বলব, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুইবার ভাবুন। কারণ চীন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করতে। ইতিমধ্যে বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। এখানে আক্রান্তরা উন্নত চিকিৎসা পাবে অবশ্যই।’