বাঁকখালীর ড্রেজিংয়ের নামে চলছে পাড় খনন, শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

বাঁকখালীর ড্রেজিংয়ের নামে চলছে পাড় খনন, শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক, রামু
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

রামু-কক্সবাজারবাসিকে বন‍্যা থেকে রক্ষা করতে সরকার এই মহতি উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেন কোন মাথাব্যথা নেই! বাঁকখালী নদীতে বড় ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে নদী খনন করার নামে বালি উত্তোলন করছে ওয়েস্টার্ন নামের একটি কোম্পানি। এই কোম্পানিটি গেল বছরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম‍্যানেজ করে এক কোটি ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে শতকোটি টাকা হরিলুট করে বলে মনে করছেন
স্থানীয় সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রামু-কক্সবাজারবাসিকে বন‍্যা থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী খনন ও বেড়িবাঁধ প্রকল্পটি অনুমোদন দিলেও পরবর্তীতে বেড়িবাঁধ প্রকল্পটি স্থগিত করে নদী খননের প্রকল্পটি চলমান রাখা হয়। কিন্তু ওয়েস্টার্ন কোম্পানী প্রধানমন্ত্রীর মহৎ প্রকল্পটি কলুষিত করে রামু-কক্সবাজারে চলমান রেললাইনের ঠিকাদারদের সাথে আঁতাত করে ‘এক ঢিলে তিন পাখি’ শিকার করছে। যেমন- (১) শতকোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে নদী খননের জন‍্য, (২) সরকারকে নামমাত্র রাজস্ব দেখিয়ে শতকোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি এবং (৩) রেললাইন নির্মাণে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম‍্যাক্স কোম্পানির সাথে আঁতাত করে শতকোটি টাকার বালি বিক্রি।

সুত্র মতে, সরকার বাঁকখালী নদীর বন‍্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন‍্য নদী গভীর ভাবে খননে এই মহতি উদ্যোগটি নিলেও সেটা
যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আগামী বর্ষা মৌসুমে জনসাধারণের বসবাস, চাষবাস অযোগ্যতা এবং বন‍্যা হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাঁকখালীর ড্রেজিংয়ের নামে চলছে পাড় খনন, শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

সুনির্দিষ্ট সূত্র জানায়, বাঁকখালী নদী খননের নির্দিষ্ট ম‍্যাপ থাকা সত্ত্বেও যেখানে বালি সেখানেই খনন করা হচ্ছে। নদী খননের নামে বাঁকখালী নদীর পাড় খনন করা হচ্ছে। এভাবে যদি নদীর পাড় খনন করতে থাকে আগামী বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বন‍‍্যাসহ পুরো রামু-কক্সবাজারবাসি হুমকির মুখে পড়বেন।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, যেখানে নদীর পাড় আছে সেখান থেকেই বালি উত্তোলন করার কারণে যে কোন ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বালি উত্তোলনের কারণে পানি নিষ্কাশনের ব‍্যবস্থা না থাকায় লম্বরীপাড়া ঘাটঘরস্থ রাজারকুল এলাকায় আরো একটি নতুন নদীর সৃষ্টি হয়েছে এবং নদীর পাড়গুলো পুকুরে পরিণত হচ্ছে।

স্থানীয়দের জোর দাবি, বাঁকখালী নদীর মাঝখানে খনন না করে যদি নদীর পাড় থেকে বড় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করা হয়, তাহলে ভালোর চেয়ে খারাপের দিক বেশি হবে।

তাদের মতে, কক্সবাজার থেকে রামু পর্যন্ত বাঁকখালী নদী খননের কাজ শুরু হলেও বেপরোয়া ভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব‍্যবস্থা না নিলে সরকার হারাবে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব এবং জনগণ সম্মুখীন হবেন চরম বিপর্যয়ের মুখে।

এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থার সরেজমিন পরিদর্শনে সরকারের রাজস্ব আদায় ও সঠিকভাবে নদী খননের জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।

বাঁকখালীর ড্রেজিংয়ের নামে চলছে পাড় খনন, শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প বাঁকখালী নদীর ড্রেজিং এবং রক্ষাবাঁধের জন্য ২০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গেল ২০১৭-১০১৮ অর্থবছরের বাজেট থেকে ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প বাঁকখালী নদী ড্রেজিং এবং রক্ষাবাধ প্রকল্পের নামে এখন চলছে অনিয়ম। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নানা অনিয়ম ও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা বলেন, আমি সরেজমিনে যাব, তদন্ত করে অনিয়ম হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

রামুর দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী খন্দকার আলী রেজাকে অনিয়মের বিষয়ে জানতে তার মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে সচেতন নাগরিকদের ধারণা, অনিয়ম করে বালি খনন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ণের সাথে আঁতাত করে রাজস্ব ফাঁকিতে এই কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।