টেকনাফের চিহ্নিত মাদক কারবারির গায়ে পুলিশের পোশাক!

টেকনাফের চিহ্নিত মাদক কারবারির গায়ে পুলিশের পোশাক!

দীর্ঘদিন ধরেই টেকনাফসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার চালিয়ে আসছেন নুর মোহাম্মদ। টেকনাফের উত্তর লম্বরী গ্রামের খুইল্যা মিয়ার এই ছেলের নামে বেশ কয়েকটি মামলাও আছে। আর তার ছোট ছেলে দেলোয়ার হোছাইন পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত। তার দাপটেই অনেকটা বেপরোয়া নুর মোহাম্মদ। সম্প্রতি নুর মোহাম্মদের পুলিশের পোশাকপরা একটি ছবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে এলাকায়। ওই পোশাকে ‘রহমান’ নামে ব্যাজও আছে। তবে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, রহমান নামে থানায় কোনো পুলিশ সদস্য নেই। কেউ পুলিশের পোশাক পরে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, টেকনাফের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি নুর মোহাম্মদ কিছুদিন আগে পুলিশের পোশাক পরে একটি ছবি তোলেন। ছবিটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন টেলিফোনে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বছর দুয়েক আগে সারাদেশে যখন মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয় তখন নুর মোহাম্মদ আত্মগোপনে চলে যান। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় আত্মসমর্পণের দিন তারও আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল। কিন্তু ছোট ভাই দেলোয়ার হোছাইনের পরামর্শে তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। দেলোয়ার টেকনাফ থানা পুলিশের সোর্স। কিছুদিন আগে একটি বাসায় নুর মোহাম্মদ পুলিশের পোশাক পরে ছবি তোলেন। ছবিতে দেখা যায়, পুলিশের শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরে আছেন নূর মোহাম্মদ, তার শার্টের ব্যাজে ‘রহমান’ নাম লেখা।

স্থানীয়রা আরও জানান, পুলিশের পোশাক পরে ছবি তুলে তা ছড়িয়ে দিয়ে নুর মোহাম্মদ জানান দিতে চাচ্ছেন, পুলিশের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক আছে। তাই ইয়াবার কারবার করলেও কেউ তার কিছু করতে পারবে না। ছোট ভাইয়ের দাপটে সে এসব অপকর্ম করছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘রহমান নামে থানায় কোনো সদস্য নেই। নুর মোহাম্মদ নামে এক মাদক কারবারি আছে। তাকে আমরা খুঁজছি। দেলোয়ার হোছাইন নামে কোনো সোর্স পুলিশের নেই। কেউ পুলিশের পোশাক পরে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুত্র : দেশ রূপান্তর।