কেজি স্কুলের পাঠ্যবই নৈরাজ্য, পাঠ্যক্রমের বাইরে বই না পড়াতে চিঠি দিচ্ছে প্রশাসন

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

সরকারী পাঠ্যক্রমের (ন্যাশনাল কারিকুলাম) বাইরে কোন অতিরিক্ত বই না পড়াতে কক্সবাজারের সমস্ত কেজি (কিন্ডারগার্টেন) স্কুলকে কঠোর নির্দেশনা সম্বলিত পত্র দেয়া হবে, যাতে কেজি স্কুলগুলো তাদের ইচ্ছে মাফিক ন্যাশনাল কারিকুলাম বহির্ভূত অপ্রয়োজনীয় ও অননুমোদিত কোন বই ছাত্র ছাত্রীদের কিনতে বাধ্য করাতে ও ক্লাসে পড়াতে না পারে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আল আমিন পারভেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পত্র দেয়ার পরও জেলার কোন কেজি স্কুল ন্যাশনাল কারিকুলাম বহির্ভূত অপ্রয়োজনীয় ও অননুমোদিত কোন বই ছাত্র ছাত্রীদের কিনতে বাধ্য করালে ও ক্লাসে পড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বই ও শিক্ষা উপকরণ নিয়ে কেউ বাণিজ্য করলে তাদের জেলা প্রশাসন কঠোরহস্তে দমন করবে।

জেলার কেজি স্কুল গুলোকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত বই নিয়ে ক্লাসে ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদান করাতে, ১৯৬২ সালের বেসরকারি প্রাইমারি স্কুল এ্যাক্ট, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে চলাসহ শৃংখলা ও সরকারি সকল বিধিবিধান মেনে চলতে বাধ্য করা হবে বলেও নিশ্চিত করেন সরকারী এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জেলার যে কোন পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোন ধরণের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা কোন অবস্থাতেই বরদাস্ত করবে না।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আল আমিন পারভেজ আরও বলেন, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন অভিযোগ পাওয়া ২টি লাইব্রেরীর মালিককে ডেকে এনে তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছে। কক্সবাজার জেলা কিন্ডারগার্টেন স্কুল এসোসিয়েশনের নেতাদের ডেকে এনে ছাত্র ছাত্রীদের বাধ্য করে অননুমোদিত ও অপ্রয়োজনীয় বই না কিনাতে এবং ক্লাসে পড়াতে বারণ করে দেয়া হয়েছে। এরপর কেজি স্কুল গুলোর কাছে এ বিষয়ে অফিসিয়ালি পত্র পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাজাহান আলী বলেন, ন্যাশনাল কারিকুলাম বহির্ভূত অপ্রয়োজনীয় ও অননুমোদিত কোন বই ছাত্র ছাত্রীদের কিনতে বাধ্য করাতে ও ক্লাসে যাতে পড়াতে না পারে, সেজন্য জেলা প্রশাসন সচেতনতার কাজ করছে।

তিনি জানান, শিক্ষাবান্ধব জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে পাওয়া সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। শিক্ষাকে বাণিজ্যমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাবে, ইনশাআল্লাহ।