দুই পর্যটকের রগ কেটে ছিনতাই ঘটনায় আবু সিদ্দিক আটক

দুই পর্যটকের রগ কেটে ছিনতাই ঘটনায় আবু সিদ্দিক আটক

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া আবু সিদ্দিকের ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় দুই পর্যটকের রগ কেটে সর্বস্ব ছিনতাইয়ের ঘটনায় মো. আবু ছিদ্দিক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। ধৃত আবু সিদ্দিক শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে।

রোববার (৫ জানুয়ারি) ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে পুলিশের কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ধৃত আবু ছিদ্দিকের বাবা আবুল কালাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবুল কালাম গভীর রাতে মোবাইলে জানিয়েছেন, কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ইয়াছিন ও কয়েকজন এসআইয়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার বাড়িতে অভিযান চালান। ওই সময় তার বড় ছেলে মো. আবু ছিদ্দিক ঘুমিয়ে ছিলেন। পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, শহরের একটি ছিনতাই ঘটনায় তার ছেলে জড়িত রয়েছে দাবি করে পুলিশ আবু ছিদ্দিককে ধরে নিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় গভীর রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মো. শাহজাহান কবিরের দাপ্তরিক মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার শহরের ভিআইপি রোড হিসাবে পরিচিত শহীদ স্মরণীর সার্কিট হাউজ এলাকায় শনিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে দুইজন লোকাল পর্যটকের গাড়ি থামিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইয়ের ওই ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় দুই পর্যটকই আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলা এলাকার ইমরুল হাসান (২২) ও তার নিকটাত্মীয় টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকার মুরাদ (২২)। তারা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে ইমরুল হাসানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সমুদ্র সৈকতে দুই পর্যটক বেড়াতে যাচ্ছিলেন। ওই সময় তাদের টমটম কক্সবাজার শহরের সার্কিট হাউজ এলাকায় পৌঁছলে ৪-৫ জনের একটি ছিনতাইকারি দল তাদের গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা ওই দুই যুবককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। তাদের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে দুই যুবককে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে সাথেই মাঠে কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোঃ শাহজাহান কবিরও সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ছিনতাইকারীদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।