কাউয়ারখোপে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, মৃত্যুশয্যায় হাসপাতালে স্বামী-স্ত্রী

কক্সবাজার শহরের কাছাকাছি উপজেলা রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মোহাম্মদ কাসেম (৪৫) ও হামিদা বেগম (৩৫) হাতপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (৩০ নভেম্বর) ভোরে কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বইলতলী পশ্চিম পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ বছর আগে থেকে একটি ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে বিরোধ ঘটে। ওই বিরোধের জের ধরে প্রায় সময় ঝগড়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ কাসেমের বাড়ির পথ আটকে দেন বড় ভাই মোহাম্মদ হোসেনের পরিবার। ওই বিষয় নিয়ে শুক্রবার বিকাল বেলা কথা কাটা-কাটি হয়। এক পর্যায়ে ছোট বিষয়কে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ হোসেনের পরিবার সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে উৎপেতে থাকে। শনিবার ভোরে মোহাম্মদ কাসেম ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ৮/১০ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল অস্ত্র-সজ্জিত হয়ে মোহাম্মদ কাসেমের উপরে হামলে পড়ে। ওই সময় হামলাকারীরা কাসেমের বাম পায়ে লম্বা কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে দেয় এবং ধারালো দা দিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্বক জখম করে। এই ঘটনায় স্বামীকে বাঁচাতে আসলে স্ত্রী হামিদা বেগমকেও ছাড়েনি হামলাকারীরা। তাকে বেদড়ক মারধর করে ধারালো ছুরি দিয়ে জখম করে। ওই সময় হামলার এক পর্যায়ে মোহাম্মদ কাসেম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ধারালো দা দিয়ে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করে।
এদিকে ঘটনার পরপরই গুরতর আহত স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে স্থানীয়রা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা গুরতর দেখে হাসপাতালের ৫ম তলায় সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি দেয়। গতকাল (শনিবার) মোহাম্মদ কাসেমের মাথায় অপারেশন করা হয়েছে। এবং বাম পায়ের অবস্থা গুরতর জখম হওয়ায় অপারেশন তাৎক্ষনিক করতে পারেনি চিকিৎসকরা।
এদিকে হামলাকারীদের মারধরে গুরতর আহত হামিদা বেগম হাসপাতালের বিছানায় কাতরানো অবস্থায় সাংবাদিকদের বলেন, কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার স্বামী যখন নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন ওই সময় আগে থেকে পরিকল্পনা করে বসে থাকা হামলাকারীরা তার উপরে হামলা করে। অস্ত্র-সজ্জিত হয়ে প্রচন্ড মারধর করে এলোপাতাড়ি কুপানো হয়েছে আমার স্বামীকে।
হাদিার দাবী, স্বামীকে বাঁচাতে গেলে তাকেও প্রচন্ড আঘাত করে হামলাকারীরা। যারা হামলা করলেন তারা হলেন, মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে রাহমত উল্লাহ (৩০), নুর আহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ ভুট্টু (৪২) ও তার ছেলে সোহেল (১৮), মৃত গুনু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ হেসেন (৫০), রাসেলের স্ত্রী সাবেকুন নাহার (২৫) মোহাম্মদ ভুট্টুর স্ত্রী জুহুরা খাতুন ও মোহাম্মদ হোসেনের স্ত্রী দিলদার বেগমসহ অজ্ঞাত কয়েকজন বহিরাগত সন্ত্রাসী ভোরবেবলা হামলা করে।
এদিকে আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহাম্মদ।
বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রস্তুতি নিচ্ছে আহতের পরিবার।