বদলে যাবে উখিয়া, দূর হবে চলাচলের কষ্ট

উন্নয়নের খোঁড়াখুঁড়ি, কাজে ধীরগতি, ঘটছে দুর্ঘটনা

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

একদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক, অন্যদিকে কক্সবাজার-টেকনাফ আরাকান সড়ক। সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত সড়ক নেটওয়ার্ক প্রকল্পের কাজ শেষ হলে উখিয়ার চেহারা বদলে যাবে। মানুষের জীবনযাপন ও চলাফেরা খুব সহজ হবে। উখিয়ার সৌন্দর্য বাড়বে অনেক গুণ। দূর হবে যানবাহনের জট। জনগণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে অনুন্নত কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উন্নয়ন কাজ অগ্রাধিকারভিত্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

উন্নয়ন কাজের জন্য চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। আবহাওয়া শুস্ক হলে ধুলোবালিতে থাকে আচ্ছন্ন।

কক্সবাজার-টেকনাফ শহীদ জাফর আলম আরাকান সড়কজুড়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তারা ঠিকমতো অফিস-আদালত, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারছেন না। রাস্তা খারাপ হওয়ায় এবং দীর্ঘ যানজটের ফলে ভিন্নপথ বেছে নিতে হচ্ছে তাদের।

এখন মানুষের ভোগান্তি হলেও মেনে নিচ্ছেন রাস্তার উন্নয়নের কাজ দেখে।

উখিয়ার গুরুত্ব বেড়েছে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার কারণে। এই সড়ক দিয়ে বিগত দুইবছর ধরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানরাসহ দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি ব্যক্তিরাই এখানে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্রশনে এসেছেন। ফলে বেশির ভাগ সময় ভিআইপিদের নিরাপত্তায় ব্যস্ত থাকতে হয় উখিয়া থানা পুলিশকে। তাছাড়া রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়।

উখিয়া-টেকনাফ সড়কে চালকদের মধ্যে নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা চলছেই। নানা উদ্যোগের পরও চালকদের মধ্যে সড়কে নিয়ম মানার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে না।

ট্রাফিক পুলিশ জানায়, সড়কে যান চলাচলে গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন, ফিটনেস, ট্যাক্স, রোড পারমিট, ইনস্যুরেন্স ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ছয়টি বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব কাগজ থাকলেও সঙ্গে না নিয়েই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামেন চালকরা। আবার অনেকেরই এসব বৈধ কাগজও থাকে না। এছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণে জরিমানা ও মামলা দিয়ে থাকে ট্রাফিক পুলিশ।

অনেক চালক লাইসেন্স নিতে উখিয়ার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণী পাস সনদ সংগ্রহ করছে বিভিন্ন কম্পিউটার দোকান থেকে। প্রধান শিক্ষকের সীল ও স্বাক্ষর জাল করে এই সনদ সংগ্রহ করছে বলে অধিকাংশ চালকের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কম্পিউটার দোকানগুলি নজর দারিতে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই।

এদিকে উখিয়া কোটবাজার চৌরাস্তার মোড়ে এবং বিভিন্ন ষ্টেশনে (ট্রাফিক লাইটের) সিগন্যাল বাতির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।