সাগরপথে মানবপাচারের মৌসুম শুরু, এবার টার্গেট নারী ও শিশুরা!

সাগরপথে মানবপাচারের মৌসুম শুরু, এবার টার্গেট নারী ও শিশুরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

শুরু হওয়া শীত মৌসুমকে সামনে রেখে আবারও সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের আশঙ্কা বাড়ছে। প্রতিটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে মানবপাচারে জড়িত দালাল সিন্ডিকেট। এসব দালালদের খপ্পরে পড়ে কম টাকার বিনিময়ে বেশি টাকা মুনাফার আশায় বিপদে পা দিচ্ছেন অনেক রোহিঙ্গা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এবার রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরাও পাচারকারিদের টার্গেট হচ্ছেন। দালালরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সুন্দরী তরুণীদের মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা যুবকদের সাথে বিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ক্যাম্প থেকে নিয়ে আসছেন। এছাড়াও বিবাহিত রোহিঙ্গা নারীদেরও সন্তানসহ তাদের স্বামীর কাছে পৌঁছে দেয়ার নামে সাগরপথে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে উঠিয়ে দিচ্ছেন।

সুত্র মতে, গত এগার মাসে টেকনাফ সাগর উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের চেষ্টাকালে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারি সংস্থার সদস্যরা ৫৮২ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে উদ্ধার করেছেন। ওই সময় বেশ কয়েকজন দালালকেও আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য দালালদের চক্রান্তের শিকার হয়ে শত শত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে আসছেন। তাদের টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় স্থান থেকে ফিশিং ট্রলারে করে সাগরে অবস্থানরত বড় ট্রলারে তুলে দেয়া হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক মানবপাচার রোধ করতে না পারলে এটি উখিয়া ও টেকনাফে নতুন করে সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-১৫ টেকনাফ সিপিসি-১’র কোম্পানি কমান্ডার লেফট্যানেন্ট মির্জা শাহেদ মাহতাব বলেন, সাগরপথে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাচার ঠেকাতে উখিয়া-টেকনাফের প্রতিটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও পাচার কাজে সম্পৃক্ত দালালদের ধরতেও তৎপর রয়েছে র‌্যাব।

এদিকে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) কক্সবাজারে মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ক এক পর্যালোচনা ও কর্মশালা অনুষ্টিত হয়েছে। ওই কর্মশালায় বাল্যবিয়ে ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারী পুরুষদের রেফারেল সার্ভিস বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ইউএসএইড’র সহায়তা ও উইনরক ইন্টারন্যাশনাল বাস্তবায়িত বাংলাদেশ কাউন্টার ট্রাফিকিং-ইন-পার্সনস (বিসি/টিআইপি) প্রোগ্রামের আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কাউন্টার ট্রাফিকিং-ইন-পার্সন্স (বিসি/টিআইপি) প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর এইচ.এম. নজরুল ইসলাম।

এসময় কক্সবাজারের প্রেক্ষিত এবং রেফারেল ডাইরেক্টরীর গুরুত্বের উপর আলোচনা করেন বিসি/টিআইপি প্রোগ্রামের কেএম মহসিনুজ্জামান, প্রোগ্রামের প্রসিকিউসন ম্যানেজার মোজাহেদুল উসলাম।

সভায় অংশগ্রহণ করেন আরআরআরসি অফিসের কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন এজেন্সির প্রতিনিধি, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, আইনজীবী, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি।

সভায় বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু পাচার এক ধরণের সহিংসতা, যা মানব সভ্যতার প্রতি উপহাস, বর্বর যুগের প্রতিচ্ছবি, মানবিক মূল্যবোধ ও অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করার নিদর্শন।

তাদের মতে, বিশ্বজুড়ে মানবপাচার ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া সব নাগরিকের মৌলিক দায়িত্ব।

তারা আরও বলেন, নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধের উপায় যেমন খুঁজতে হবে; তেমনি এর প্রতিকারে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে মানবপাচার নিয়ে কাজ করছে এমন সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করলে পাচার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করা সম্ভব।