ইজারা নেয়া ইটভাটা জবরদখল করতে চাইছেন ‘ভূট্টো চেয়ারম্যান’!

ইজারা নেয়া ইটভাটা জবরদখল করতে চাইছেন ‘ভূট্টো চেয়ারম্যান’!

মহিউদ্দিন মাহী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

রাজনৈতিক প্রভাব ও একজন জনপ্রতিনিধির নাম ভাঙিয়ে ইজারা নেয়া ইটভাটা নিজের নামে অবৈধভাবে দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন রামু উপজেলাধীন ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো। ইজারা চুক্তিপত্রে ইটের ব্র্যান্ড নাম, লাইসেন্স নবায়ন, কাষ্টমস ভ্যাট পরিশোধসহ বেশ কিছু শর্ত উল্লেখ থাকলেও কিছুই মানছেন না তিনি। চুক্তিতে বলা ছিল ‘ডব্লিউ জেড’ নামেই ইট উৎপাদন ও বিপনন হবে। অথচ সেই শর্ত ভঙ্গ করে ‘রামু ব্রিক’ নামেই নতুন ইট তৈরি করা হচ্ছে।

এমন সব অভিযোগ তুলেছেন ইটভাটার প্রকৃত মালিক, কক্সবাজার শহরের আরেক রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ও প্রকৌশলী মোহাম্মদ সহিদুজ্জামানের আপন চাচাতো ভাই।

মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের দাবি, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর আফসার কামাল, আলী হোসেন, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও সিরাজুল ইসলাম ভূট্টোর সাথে তার মালিকানাধীন ‘ডব্লিউ জেড’ ব্র্যান্ডের ইটভাটা ইজারা দেয়ার জন্য নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ১০ বছরের একটি চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতে ইটভাটার যাবতীয় সরঞ্জাম ও ইট পোড়ানোর লাইসেন্স নবায়নের ভিত্তিতে লিজ দেয়া হয়।

তার মতে, ওই চুক্তিপত্রে ইটের ব্র্যান্ড নাম ‘ডাব্লিউ জেড’ হিসেবে ইট উৎপাদনের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এছাড়াও প্রতিবছর ৮ লাখ ৫০ হ্জাার টাকা বাৎসরিক ভাড়া নির্ধারণ হলেও কোনটাই মানছেন না ইজারা নেয়া ব্যক্তিরা। চুক্তি ভঙ্গ করে অবৈধ ভাবে নতুন নামে ইট তৈরি করে চলেছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই আইন মোতাবেক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন ইটভাটা মালিক জামান ব্রাদার্সের স্বত্ত্বাধিকারি মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান।

রামুর রশিদনগর ইউনিয়নের ধলিরছড়া এলাকায় স্থাপিত ‘ডব্লিউ জেড’ ইটভাটায় সরেজমিনে দেখা যায়, ইটভাটার কার্যালয়ে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার কাজে ব্যবহৃত স্থানীয় সাংসদের একটি ব্যানার দেয়ালে টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে।

ওই সময় দায়িত্বরত ইটভাটা ব্যবস্থাপক আহম্মদকে পাওয়া গেলেও তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। আফসার কামাল ও সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো ছাড়া অন্য কেউ এই ইটভাটা সম্পর্কে জানবে না বলেও জানিয়ে দেন তিনি।

সূত্র মতে, ওই ইটভাটা কার্যালয়ে কেউ গেলে স্থানীয় সাংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব দেখানো হয়! এমন কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তা ও ইটভাটায় নিয়োজিত শ্রমিকরা। স্থানীয় সাংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে তার খুঁটি মজবুত করে রাখেন ‘ভূট্টো চেয়ারম্যান’।

এদিকে ইটভাটার ইজারা চুক্তি না মানা সম্পর্কে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো জানান, তাদের সাথে চুক্তি করার আগে শামশুল আলম নামে আরও একজনের সাথে সম্পূর্ণ মালিকানা বিক্রিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ওয়াহিদুজ্জামান।

তবে ওই বিষয়ে ওয়াহিদুজ্জামান দাবি করেন, যার সাথে চুক্তি করা হয়েছিল ওখানে কোন ধরণের লাইসেন্স বিক্রির কথা উল্লেখ ছিল না। ওই শামশুল আলম দীর্ঘ বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করায় তার কোন হদিস না পেয়ে সিরাজুল ইসলাম ভূট্টোদের সাথে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি।

ওয়াহিদুজ্জামানের দাবি, শামশুল আলম ইটভাটা করতে রাজি না থাকায় তার সাথে সমঝোতার মাধ্যমে ওই চুক্তিপত্রের সমন্বয় করেছেন তিনি। যদিও চুক্তি অনুযায়ী লাইসেন্স যেহেতু জামান ব্রাদার্সের নামে সে ক্ষেত্রে ‘ডাব্লিউ জেড’ নামে ইট তৈরি করারই কথা।

মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এই মুহুর্তে কিসের ভিত্তিতে আমার জমির উপর রামু ব্রিক ফিল্ড নামে অন্য একটি ইটভাটা চালিয়ে নিচ্ছেন সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো তা আমার বোধগম্য নয়।

সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় সাংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে নতুন ব্র্যান্ডে ইট তৈরি করে আসলেও জামান ব্রাদার্সের লাইসেন্স ঠিকই ব্যবহার করছেন বলে জানান ওয়াহিদুজ্জামান।

তবে নতুন নামে ইটভাটার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে কিনা জানতে চাইলে স্পষ্ট ভাবে নেই বলে জানান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো। তবে তিনি দম্ভ ভরে বলেন, কাগজপত্র আছে কী নেই তা যেখানে দেখাতে হবে সেখানেই দেখানো হবে।

এদিকে ইটভাটার প্রকৃত মালিক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান ইজারা দেয়া ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী লিগ্যাল নোটিশ, ইটভাটা মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।