ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময়

কক্সবাজারে শুরু হলো ৪ লেন সড়ক উন্নয়ন কাজ, খরচ হবে ২৮৯ কোটি টাকা

কক্সবাজারে শুরু হলো ৪ লেন সড়ক উন্নয়ন কাজ, খরচ হবে ২৮৯ কোটি টাকা

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে কক্সবাজার শহরের লিংক রোড থেকে লাবণী মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়ক চারলেনে উন্নিতকরণের কাজ। ২৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই সড়কের উন্নয়ন কাজ ২০২১ সালের ৩০ জুন শেষ হবে। ৯ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির নতুন প্রশস্থ হবে ৮০ ফুট।

নতুন ভাবে নির্মাণ করতে যাওয়া এই সড়কে মাত্র ৩ ফুট প্রশস্থ ডিভাইডার বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অংশে রাস্তার দুইপাশে প্রশস্থ ফুটপাত ও সড়কবাতি থাকবে। অত্যাধুনিক এই সড়ক পর্যটন শহরকে আরও আকর্ষণীয় ও মোহনীয় করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সড়কের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেলেও বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকালে কক্সবাজার সড়ক বিভাগ স্থানীয় অধিবাসী, হোটেল-মোটেল মালিক ও প্রতিনিধি, রাজনীতিক, সাংবাদিক এবং সড়কের দুইপাশে বসবাসরত গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করেছে।

কক্সবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমার সভাপতিত্বে সড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ভরা পর্যটন মৌসুমে এই সড়কের কাজ শুরু না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একইসাথে তারা দাবি করেন, যদিও কাজ শুরু করা হয়, তাহলে যেন বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করেই নির্মাণ কাজ চালিয়ে নেয়া হয়।

সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, অল্প ক’দিনের মধ্যেই পর্যটন মৌসুম শুরু হবে। এই সময়ে যদি কক্সবাজার শহরের লাবণী পয়েন্ট থেকে লিংক রোড পর্যন্ত সড়কটি বন্ধ করে দিয়ে কাজ শুরু করা হয় তাহলে পর্যটকরা কক্সবাজার বিমুখ হয়ে ফিরে যাবেন। এই বছর আর তেমন পর্যটক পাওয়া যাবে না।

তাদের মতে, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সারাবছর ব্যবসা করতে পারেন না। তারা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এই ৩ মাস সময়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন সারাবছর। এই সময়ে যদি সড়কের কাজ শুরু করা হয় তাহলে কক্সবাজার শহরটাই অচল হয়ে পড়বে।

সভায় বক্তারা পরামর্শ দেন, সড়কটির চারলেনে উন্নিত করার কাজ যদি শুরু করতেই হয়, তাহলে যেন সড়কের এক পাশ কাজ করে অন্য পাশ খোলা রাখা হয়।

সভায় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর সড়ক যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আনুষ্টানিভাবে কক্সবাজার জেলার লিংক রোড-লাবণী মোড় সড়ক (এন-১১০) চারলেনে উন্নিতকরণ প্রকল্প উদ্বোধন করেন। পরে কক্সবাজার পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানও সড়কটির উন্নয়ন কাজের ভিত্তিফলক উদ্বোধন করেন।

তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল ও একই বছর ১৬ অক্টোবর এই সড়কটির উন্নয়ন প্রকল্প পিইসি সভায় অনুমোদিত হয়। পরে চলতি ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারী একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে প্রকল্পটি অনুমোদন ও অর্থবরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়।

সূত্র মতে, কক্সবাজার শহরের লাবণী পয়েন্ট থেকে লিংক রোড পর্যন্ত (মূলতঃ বাংলাবাজার পর্যন্ত) ৯ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে ২৮৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে। আগামী প্রায় দেড়বছর সময় ধরে সড়কটির নির্মাণ কাজ চলবে। এই সড়কটি আগামি ২০২১ সালের ৩০ জুন শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সভায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের আতংকের কথা তুলে ধরে বলেন, ৮০ ফুট প্রশস্থ সড়কটি নির্মাণ করতে গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হোটেল-মোটেল জোন ও আবাসিক গেস্ট হাউস এলাকায় নির্মিত বহুতল ভবনগুলোর ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে ফুটপাতের নিচে ড্রেনের ব্যবস্থা থাকায় প্রায় অধিকাংশ হোটেলের ব্যাজমেন্টে ফাটল ধরার আশংকা রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায় বের করার জন্য সড়ক বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।

ওই ব্যাপারে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, আমি যতটুকু প্ল্যান দেখেছি তাতে কোন স্থাপনার তেমন কোন ক্ষতি হওয়ার আশংকা নেই। তারপরও কোন কোন স্থাপনার কিছুটা ক্ষতি হলেও তা ব্যাজমেন্টে যাবে না বলেই আমি মনে করি।

এই সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপকও বক্তব্য রাখেন। তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে এক থেকে তিন সপ্তাহ সময় চেয়ে বলেন, কোন কোন স্থাপনার কতটুকু সড়ক নির্মাণকালে ক্ষতি হতে পারে তা এই সময়ের মধ্যে জানানো সম্ভব হবে। তবে তিনিও নিশ্চিত করেন, বর্তমান সড়কটির দুইপাশের ড্রেনের বাইরের কোন স্থাপনা সড়কটির কারণে ক্ষতি হওয়ার আশংকা নেই।

সভায় বক্তব্য রাখেন ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বাবুল চন্দ্র বনিক, মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান শরীফ বাদশা, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সৈকত সম্পাদক মাহবুবর রহমান, হোটেল ব্যবসায়ী আবুল কাশেম সিকদার, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, উত্তরণ গৃহায়ণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম কামাল উদ্দিন, কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমতিয়াজুল হক, পৌরসভার প্রতিনিধি মোহাম্মদ নুরুল আলম প্রমুখ।