সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া পর্যটকদের মাঝে ‘আতঙ্ক’!

সেন্টমার্টিন যেভাবে হলো বাংলাদেশের

নুরুল হক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র প্রভাবে কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছে। বাড়ছে বাতাসের গতি। তবে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আটকেপড়া পর্যটকটা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ কারণে জাহাজসহ যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসক।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে দ্বীপে বৃষ্টি ও বাতাসের গতি বাড়লে তাদের মাঝে ভয় কাজ করছে। দুইদিন ধরে বৈরী আবহাওয়া ও সতর্ক সংকেত থাকায় টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজসহ কোনো ধরণের নৌযান চলাচল করেনি। ফলে অন্তত ১২শ পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন।

একইদিন দুপুরে দ্বীপে আটকাপড়া কয়েকজন পর্যটকদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র মো: আদিল বলেন, ‘প্রথমবারের মত বন্ধুদের সঙ্গে সেন্টমাটিন ভ্রমণে এসে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র কারণে আটকে পড়েছি। শুক্রবার দিনে তেমন একটা ভয় কাজ করেনি। রাতে যখন বৃষ্টি ও বাতাসের গতি বাড়তে শুরু করে, তখন ভয় কাজ করছে।’

তিনি বলেন, আমরা অল্প টাকায় ভ্রমণে আসি। এখন টাকাও শেষ। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় কাজ করছে বৃষ্টি ও বাতাসের গতি নিয়ে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো: রিয়াদ বলেন, ‘সাগরের বুকে জেগে উঠা সেন্টমার্টিন দেখতে অনেক সুন্দর। যখন বৈরী আবহাওয়া হয়, তখন সাগর ভয়ানক হয়ে উঠে। মনে হয় দ্বীপটি এক মুহূর্তে তলিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ইতোপূর্বে দ্বীপ ভ্রমণে আসা হয়নি। প্রথম দ্বীপ ভ্রমণে এসেই এই অভিজ্ঞতা হলো। বাসা থেকে পরিবারের লোকজন খোঁজখবর রাখছেন, খুব ভয় কাজ করছে।

আরেক আটকেপড়া ঢাকার সুমন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ১৭ জন বন্ধু মিলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে আসি। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ থেকে কোনও জাহাজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে না। ফলে দ্বীপে আটকা পড়ে যাই। আমাদের মতো দ্বীপে আরও শত শত পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছে।’

তবে দ্বীপে আটকাপড়া পর্যটকদের হোটেল ও খাবারে ডিসকাউন্ট দিতে সব হোটেল-মোটেলকে নির্দেশ দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকে দ্বীপে বৃষ্টি ও বাতাস বেড়েছে। এজন্য রুম থেকে বের হতে পর্যটকদের নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া দ্বীপের চারদিকে সমুদ্র সৈকতে যাতে কোনও পর্যটক না নামেন, সে জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, যারা প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন ভ্রমণে এসেছেন, তাদের মধ্যে কিছু লোক ভয়ে আছেন বলে শুনেছি। তবে পর্যটকদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।’

সমুদ্র উত্তাল থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে কয়েক হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে পারেননি। এর আগে দ্বীপে ভ্রমণে এসে আটকা পড়েছেন ১২শ পর্যটক।

সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আজমীর ইলাহি বলেন, ‘দ্বীপে আটকেপড়া পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করে যাচ্ছেন।’

সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘দ্বীপে আটকাপড়া পর্যটকদের ডিসকাউন্ট দেয়ার সিন্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী ভাড়া নেয়া হবে।ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দ্বীপের পর্যটন ব্যবসায়ীদের দেড় কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপে আটকাপড়া পর্যটকরা নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত রাখতে সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখা হচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্তক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

তার মতে, আবহাওয়া ভাল হলে আটকাপড়া পর্যটকদের টেকনাফ নিয়ে আসা হবে। তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সেন্টমার্টিনসহ টেকনাফে ৬৫টি সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।