ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভূমিধসে শঙ্কা

শিবিরে ইয়াবা ও মানবপাচার বন্ধে রোহিঙ্গা নেতারা তৎপর

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র তীব্রতা শুরু হলে পৃথিবীর বৃহত্তম শরণার্থী শিবির কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে ভূমিধস ও ঝুপড়িঘর গুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়াও কক্সবাজার উপকূলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সংকেত বাড়তে থাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এছাড়াও সেন্টমার্টিন দ্বীপে আটকা পড়েছেন অন্তত ১২শ পর্যটক। জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে কক্সবাজারের নিচু এলাকা।

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত কক্সবাজার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন রোহিঙ্গা শিবিরের পাশাপাশি জেলা শহরসহ পাহাড়ি অন্য এলাকাতেও পাহাড় ধসের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তবে ‘বুলবুলে’র সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, পূর্বের অভিজ্ঞতায় বলা যায়, ঘুর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র তীব্রতা শুরু হলে আশ্রিত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার আবাসস্থলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। উপড়ে যেতে পারে ঝুপড়িঘরগুলো।

তিনি জানান, এসব মোকাবেলায় ক্যাম্পে কাজ করা আইএনজিও, এনজিও এবং জিও প্রতিষ্ঠান গুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী ভলান্টিয়ারগণ নিজ নিজ ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাদের সবাইকে সমন্বয় করতে প্রস্তুত নিয়ে আছে সেনাবাহিনীর বিশেষ টিম। এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্প এলাকায় বৈঠকও করেছে সংশ্লিষ্টরা।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বলেন, জেলার ৮ উপজেলায় ৫৩৮টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বহুতল ভবনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও।

তিনি বলেন, উপকূল হিসেবে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সদরের পোকখালী, চৌফলদন্ডী, খুরুশকুল, টেকনাফের সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

সভায় জানানো হয়, সিপিসির ৬ হাজার ৪০০ জন স্বেচ্ছাসেবক ৪৩০টি ইউনিটের মাধ্যমে প্রস্তুত রয়েছেন। প্রতিটি ইউনিটে থাকা মেগাফোন দিয়ে সংকেত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় তা প্রচার করে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রস্তুত রয়েছেন রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ৮০০ ভলান্টিয়ারও। প্রস্তুুত রাখা হয়েছে দমকল বাহিনী, পর্যাপ্ত যানবাহন, আনসার-ভিডিপি ও স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলায় ইউএনওদেরও সতর্ক নজর রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

০১৭১৫-৫৬০৬৮৮ নম্বর সচল রেখে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। দুর্যোগসংক্রান্ত সকল তথ্য এখানে সরবরাহ ও পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন আরও জানান, সামগ্রিকভাবে জেলার উপকূল এবং আশপাশ এলাকার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সহযোগিতার জন্য প্রস্তুুতি নেয়া রয়েছে।

তাঁর মতে, জেলা দুর্যোগ ফান্ডে ২ লাখ ৬৩ হাজার নগদ টাকা, ২০৬ মেট্রিক টন চাল, ৩৪৬ বান ঢেউটিন, ২৫০০ পিস কম্বল এবং ৩৭৬ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।

তবে কক্সবাজারের ৮ উপজেলার মধ্যে অধিকাংশই উপকূলীয় হওয়ায় এসব মজুদ অপ্রতুল। তাই জরুরি ভিত্তিতে ১০ লাখ নগদ টাকা, ২শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

ওইদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে কক্সবাজারে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। কক্সবাজারের উপকূলীয় নাজিরারটেক, পেকুয়ার মগনামা, কুতুবদিয়ার ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ এলাকা, মহেশখালীর নিচু এলাকা, সদরের পোকখালীসহ নিন্মাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসব এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।