জেলা ইজতেমায় সমুদ্র পাড়ে মুসল্লিদের ঢল, আখেরি মোনাজাত শনিবার দুপুরে

জেলা ইজতেমায় সমুদ্র পাড়ে মুসল্লিদের ঢল, আখেরি মোনাজাত শনিবার দুপুরে

মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক, কক্সবাজার ইজতেমা থেকে
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাড়ে ঝাউবাগানে শুরু হওয়া তিনদিনের জেলা ইজতেমায় আজ শুক্রবার (৮ নভেম্বর) ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজ আদায় করতে জন্য লাক্ষো সাধারণ মুসল্লির ঢল নেমেছে। আশা করা হচ্ছে, আজ সর্ববৃহৎ জুমার নামাজের জামাত হবে কক্সবাজারে।

জেলা ইজতেমা শেষদিনে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শনিবার দুপুরে শেষ হবে। শুক্রবার সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নেমেছে সমুদ্র সৈকতের তীরে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মুসল্লিদের কণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবর’, ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে মূখরিত হয়ে উঠেছে সাগরের তীর। ইজতেমার ২য় দিনেও কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে ইজতেমা ময়দান। সৈকত নন্দনী কক্সবাজারের এই বালিয়াড়িতে ইজতেমাস্থল এখন মুসল্লিদের আগমনে মুখরিত।

এ বছর জেলা ইজতেমা ডায়বেটিস হাসপাতালের পশ্চিম-উত্তর পাশের এলাকায় দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে ৩ দিনের জেলা ইজতেমা শেষ হবে।

আয়োজকরা জানান, আম বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার আখেরি মোনাজাত দুপুরের নামাজের আগে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতি বছরের মতো এবারও তাবলীগ জামাতের জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে কক্সবাজারে। এবারের ইজতেমায় কক্সবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তাবলীগ জামাতের মুরুব্বি, আলেম-ওলামা ও সাথীদের তত্ত্বাবধানে লাখো মুসল্লির সমাবেশ হয়েছে। তাবলীগ জামাতের প্রাণ কেন্দ্র ঢাকার কাকরাইলের মুরুব্বীসহ কক্সবাজার তাবলীগ জামাতের মুরুব্বীরা ইজতেমায় বয়ান করছেন।

জেলা ইজতেমায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বে রয়েছে। পাশাপাশি তাবলীগের সাথীর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে করছেন। যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস রয়েছে।

পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, ইজতেমার শেষ পযর্ন্ত মুসল্লিদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন সম্পুর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইজতেমার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা, তাবলিগে যাওয়ার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এবং তাবলিগ জামায়াতে সময় দেয়া। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থানের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করছেন।

ইজতেমাতে আসা মুসল্লিরা বলেন, নামাজ-দোয়া ও আমল আখলাককে পরিশুদ্ধ ও শিক্ষা নিতে এখানে এসেছি।

ইজতেমার ময়দানে মুরব্বিরা আম বয়ানে বলেন, যিকির মানুষের মনের সকল পাপ দূর করে। শুদ্ধ যিকিরের মাধ্যমে আমাদের কলপকে তরতাজা রাখতে হবে। মুসলিমদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে। যারা এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেবে, কাল হাশরের ময়দানে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেয়া হবে। প্রত্যেক মুসলমানকে ইমানের সাথে নামাজ আদায় করতে হবে।