মাদক কারবারি স্বামীর নির্যাতনে মৃত্যুশয্যায় গৃহবধূ

মাদক কারবারি স্বামীর নির্যাতনে মৃত্যুশয্যায় গৃহবধূ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মাদক কারবারে সহায়তা না করায় স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুশয্যায় দিনাতিপাত করছেন এক গৃহবধূ।

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানাধীন দর্জি সমিতির মাঠ ক্ষেতচর এলাকায় এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নোমান কলেজের পরে ক্ষেতচর এলাকায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার চম্পা (২৫) তার স্বামী নুরুল ইসলাম ওরফে বাচা’র (৩৫) সাথে বসবাস করেন। তাদের সংসারে এক বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে।

সুত্র মতে, ওই এলাকার আবুল বশরের ছেলে বাচা’র সাথে মরিয়মের বিয়ে হয় প্রায় ১০ বছর আগে। মরিয়মের স্বামী বাচা একজন পেশাদার মাদক বিক্রেতা। তিনি ইয়াবা, গাঁজা এবং চোলাই মদসহ নানা প্রকার নেশাদ্রব্য বিক্রির সাথে জড়িত। মরিয়মকে তিনি প্রায় সময় তার ব্যবসায় সহযোগিতা করার জন্য মারধর করতেন। মরিয়ম রাজি না হলে চলতো অমানবিক অত্যাচার!

স্বামীর মাদক ব্যবসায় সহায়তা না করায় সম্প্রতি মরিয়মকে তার স্বামী বাচা প্রথমে মাথায় তুলে আচাড় দিয়ে পঙ্গু করেন এবং পরে গরম ছ্যাঁকা দিয়ে তার শরীর ঝলসে দেন। এতে মরিয়ম এক প্রকার পঙ্গু ও শারিরিকভাবে অক্ষম হয়ে যান।

ঘটনার ১০/১৫ দিন পর তার বাবার বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে তার অবস্থার অবনতি দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাকে রিলিজ দিয়ে দিতে বাধ্য হন। ফলে মরিয়ম বর্তমানে মৃত্যুশয্যায় দিনাতিপাত করছেন।

এ ব্যাপারে মরিয়মের বাবা শামসুল আলম বলেন, আমার মেয়ে স্বামীর অবৈধ মাদক ব্যবসার সহযোগী না হওয়ায় তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এ মাদক কারবারী বাচা ও তার সহযোগী বোন জামাই আলমগীর (৩৫), বোন বুচুনি’র (৩০) গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে নুরুল ইসলাম বাচা’র সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এদিকে নির্যাতিত ময়িরমের পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা অসহায় বোধ করছেন। তারা মামলা করতে সাহস না পেলেও থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন আয়শা খাতুন। বাচা মামলা না করার জন্য হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি শুনিনি। কেউ অভিযোগও করেনি। অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি নির্যাতিতাকে থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

মাদক ব্যবসায়ীর হাতে গৃহবধূ নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, অভিযোগটি পেয়ে শনিবারেই তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়েছিলাম, কিন্তু ধরতে পারিনি। তবে অভিযান অব্যাহত আছে। যে কোন সময় সে ধরা পড়বেই।

উল্লেখ্য, একমাস আগে বাচা মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন জেল খাটার পর পুনরায় ছাড়া পেয়ে মাদক ব্যবসা করছেন বীরদর্পে। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদকের মামলাও রয়েছে।