সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি

পেকুয়ায় বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি চায় আ.লীগ

মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় আ.লীগের এমপিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির তৃণমূল থেকে জানানো হয়েছে, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। দুঃসময়ে যে সকল কান্ডারী সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন তারা বঞ্চিত হয়েছেন। তবে দলের সুসময়ের কিছু অলস ব্যক্তিকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে পদায়ন করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ঘোষিত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক দলটির মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল দেখা দিয়েছে।

গত ২৫ অক্টোবর পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আত্মপ্রকাশ পেয়েছে। ইতোপূর্বে সম্প্রতি পেকুয়ায় আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনের জন্য একটি অর্ন্তবর্তীকালিন কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে আবু হেনা মোস্তফা কামাল চৌধুরীকে আহবায়ক ও সাবেক কমিটির সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেমকে সদস্য সচিব করা হয়। ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যদের মধ্যে ২৭ জনের নাম ঘোষিত হয়েছে। ৪ জনের নাম অপেক্ষমান তালিকায় আছে।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আত্মপ্রকাশকে ঘিরে পেকুয়ায় ক্ষমতাসীন দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম বিভক্তি দেখা দিয়েছে। মতবিরোধ ও অন্তঃদ্বন্ধ কলহের মধ্যে পড়েছে অর্ন্তবর্তীকালীন ওই কমিটি।

তৃণমুল আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী বলেন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি নিয়ে আমরা মোটেই সন্তুষ্ট নই। হতাশ হয়েছি। আমরা এ ধরণের একটি কমিটি নিয়ে প্রত্যাশিত নই।

তারা মনে করেন, তৃণমূল আওয়ামী লীগের মতামত নেয়া প্রয়োজন ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা-কর্মীরা বলেন, যাকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে ওই ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত। কখনো পেকুয়ার রাজনীতি ও রাজপথের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল না। ওই ব্যক্তি পেকুয়ার ভোটারও নন। কেন তাকে এত বড় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেটি আমাদের মোটেই বোধগম্য নয়।

তারা বলেন, কমিটিতে অলস ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যারা মূল্যায়িত হয়েছেন তারা মাঠে ময়দানে আওয়ামী লীগ করেননি। অপরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে ওই কমিটি গঠন একপেশে হয়েছে।

তাদের মতে, দুই মুজিবকে নিয়ে বিতর্কের সুত্রপাত হচ্ছে। লায়ন মুজিবকে পদায়ন করে চরম প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এখন তাকে বাদ দিয়ে আরেক মুজিবকে অন্তর্ভূক্ত করেছে। একটি পদ নিয়ে দুই মুজিবের টানাটানি। কে বৈধ আর কে অবৈধ- সেটি অস্পষ্ট থেকে গেছে।

তাদের দাবি, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে নৌকাবিরোধী কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিকেও পদায়ন করা হয়েছে। এটি নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্তের সাংঘর্ষিক। কয়েকজন আজ্ঞাবহ ব্যক্তিকে পদ দেয়া হয়েছে। আমরা এদের পদ থেকে অব্যাহতির পক্ষে।

সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, নৌকাবিরোধী কোন ব্যক্তিকে আমরা ওই কমিটিতে দেখতে চাই না। যারা চেতনা ও মূল্যবোধের বিপক্ষে থাকবে তারা কেন পদ পাবেন?

একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশিদ নুরী জানান, আবু হেনার সমস্ত পরিবার বিএনপি করে। তিনি কিভাবে আহবায়ক হয়েছেন? তৌহিদুল ইসলাম তোহা পেকুয়ার ভোটারও নন। তার কি ত্যাগ ছিল এই কমিটিতে তাকে সদস্য করা হয়েছে! তার মামা রেজাউল করিম মিন্টু বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতা। পেকুয়ার চরের জমি রক্ষা করতে জোট সরকারের সময় বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন।

তার মতে, লায়ন মুজিব জামায়াতের ক্যাডার। তাকে ওই পদে মূল্যায়ন করে চেতনাবিরোধী কাজ করা হয়েছে। তিনি কি কখনো আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন, প্রশ্ন তুলেন মামুনুর রশিদ নুরী।

তিনি বলেন, আজকে দুই মুজিব নিয়ে টানাপোড়ন চলছে।

সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, আমরা বিস্মিত। হতাশ কিভাবে হয়েছি প্রকাশ করতে পারছি না। আওয়ামী লীগের হৃদস্পন্দন ক্ষয় হচ্ছে। রাজাকারের সন্তানরা আজকে আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করছে। সব কিছু বিএনপি-জামায়াত ভোগ করছে। জুলুম ও বৈষম্য চলছে ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের।

মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মনছুর আলম নানক জানান, খাইরুল এনামের মত ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতাকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে সদস্য করা হয়নি। চাটুকার ও অশিক্ষিত, বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি হয়েছে। নুরুল ইসলাম বিএসসি, এম কম কামাল হোসেন, এড. কামাল হোসেন, এটিএম বখতেয়ার উদ্দিন চৌধুরীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে এই কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ এমন কিছু ব্যক্তিকে পদায়ন করা হয়েছে যারা ওই পদের যোগ্য নন।

তিনি বলেন, আমরা এ সবের অবসান চাই।

তাঁতী লীগ পেকুয়ার সিনিয়র নেতা আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা নিপীড়নের সময় প্রতিবাদ করতে রাস্তায় থাকি। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে আমরা যারা রাজপথে থাকি এদের কোন মূল্যায়ন নেই। যারা রাজনীতি করেন না আওয়ামী লীগকে বুকে ধারণ করেন না এরাই সর্বাধিক মূল্যায়ন হচ্ছেন। নৌকাবিরোধী কিছু ব্যক্তি এ কমিটিতে যুক্ত হয়েছে। আমরা এদের অব্যাহতি দাবি করছি।

তিনি বলেন, পেকুয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে শূণ্য করার মিশন শুরু হয়েছে বলে মনে করছি। না হয় এত চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র এখনও থেকে গেছে কেন।

উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, আসলে জেলা আওয়ামী লীগ এ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। আমি এ সম্পর্কে বক্তব্য দেবো না।

তিনি বলেন, এটা জেলা আওয়ামী লীগের এখতিয়ার। এখানে আমার বলার কিছু নেই।