চ্যাম্পিয়ন গোল্ড শিল্ড পশ্চিম নোনাছড়ির

বাঁকখালীর দুই তীর ‘জোরে মারো, হেইয়্যা’ ধ্বনিতে মুখরিত

মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক, রামু
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের কাছের উপজেলা রামুতে গ্রামীণ লোকজ উৎসব ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় নৌকা বাইচের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার ঘোষক, জাজেস- রেডি- গো বলার সাথে সাথে নৌকা খেলা দেখতে আসা বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষেরা রামুর বাঁকখালী নদীর দুই তীরে ‘জোরে মারো,আরও মারো, হেইয়্যা’ প্রতিধ্বনিতে মুখরিত করে তুলেন হাজার হাজার জনসাধারণ।

সর্বশেষ ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রামু ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের সৌজন্যে বাঁকখালী নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

খেলা চলাকালে সমর্থকদের ‘মারো, মারো, আরও জোরে, মারো’ শব্দে তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতায় মেতে উঠে প্রতিযোগতিায় অংশ নেয়া ২৬টি নৌ দল।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) তিনদিনের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে।

বাঁকখালী নদীর দু’পারে হাজার হাজার দর্শকের সরব উপস্থিতি দেখা যায়।

ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রামু কেন্দ্রীয় নৌকা বাইচ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফরিদুল আলমের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের বক্তব্যে বলেন, ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ রামুবাসীসহ গণ মানুষের প্রাণের বাইশালী খেলা। নৌকা বাইচ সব পেশার মানুষের প্রাণের খেলা। এই খেলাকে ঘিরে প্রতিবছর অন্যরকম আনন্দে মেতে উঠে হাজার হাজার মানুষ।

চ্যাম্পিয়ন গোল্ড শিল্ড পশ্চিম নোনাছড়ির

তিনি বলেন, সাহিত্য, সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্যে ভরপুর পর্যটন শহর রামু উপজেলার গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য নৌকা বাইচ। শত বছর আগে রামুর বাঁকখালী নদীতে রাখাইনরা নৌকা বাইচ খেলা শুরু করেন। কালক্রমে এই খেলা আমাদের ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তাই অন্য ক্রীড়ার মতো নৌকা বাইচ ধারাবাহিকভাবে আয়োজনে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করে যাবেন।

বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন রামু ৩০ বিজিবির সহকারী পরিচালক মাসুদ রানা, রামু থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের, রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস.এম. মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে শুরুতে অথিতিদের ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নৌকা বাইচ পরিচালনা কমিটি।

ফাইনাল খেলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন গোল্ড শিল্ড চিরতরে লাভ করেন পশ্চিম নোনাছড়ি, জোয়ারিয়ানালা। ২য় ট্রফি লাভ করে নতুন বাহিনী তালেব মেম্বার, নোনাছড়ি, জোয়ারিয়ানালা ও ৩য়-ট্রফি লাভ করেন ইয়াং টাইগার স্পোটিং ক্লাব, শ্রীমুরা।

তাছাড়াও ৪র্থ মাঝি মাল্লা ৮ জন। সুশৃঙ্খল দল-মাঝি মাল্লা-৮ জন। শ্রেষ্ঠ মাঝি-১ জন। শ্রেষ্ঠ বেত ধারক- ১ জন পুরস্কার গ্রহণ করেন।

৩ দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন অঞ্চলের ২৬ নৌকা বাইচ দল অংশ গ্রহণ করে এবং ফাইনাল খেলায় ৫৬ পাড়ি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

গর্জনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো, জোয়ারিয়ানালা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, চাকমারকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, রাজারকুলের ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, চেয়ারম্যান মোস্তফা আহমদ, জেলা পরিষদ সদস্য ব্যবসায়ি নুরুল হক, গিয়াস উদ্দিন কোম্পানী, ব্যবসায়ি মির কাসেম হেলালী, রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক তপন মল্লিক, জেলা যুবলীগ নেতা পলক বড়ুয়া আপ্পু, জেলা তাঁতী লীগের সহ-সভাপতি আনছারুল হক ভূট্টো, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আজিজুল হক আজিজ, সাংসদ কমলের সহকারি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

বাঁকখালীর দুই তীর 'জোরে মারো, হেইয়্যা' প্রতিধ্বনিতে মুখরিত

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ক্রীড়াপ্রিয় ওমর ফারুক মাসুম।

নৌকা খেলায় জাজেস-রেডি-গো ঘোষকের দায়িত্ব পালন করেন ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, ইউপি সদস্য আবুল বশর ও তানভীর।

খেলায় সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ছিদ্দিক আহমদ, নৌকা বাইচ পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদ উল্লাহ (আসাদ), ইউপি সদস্য নুর আহমদ, ইউপি সদস্য রোকন উদ্দিন, ইউপি সদস্য মোঃ কামাল উদ্দিন, ইউপি সদস্য সন্তোষ বড়ুয়া, ইউপি সদস্য জাফর আলম, ইউপি মোবারক হোসেন, ইউপি সদস্য লিটন বড়ুয়া, ক্রীড়া সম্পাদক মহিউদ্দিন, আমান উল্লাহ সওদাগর, সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মোর্শেদ আলম, গোপাল নাথ,ফজল আম্বিয়া কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম প্রমূখ।

অংশগ্রহণকারী নৌকা বাইচ দল গুলো হল আশরাফুজ্জামান মাঝি, ১০নং চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ, চকরিয়া, কক্সবাজার। আবুল কালাম মেম্বার ও সৈয়দুল হক, জিনেরা ঘোনা, দঃ মিঠাছড়ি কালা পাহাড়, রামু। ভাই ভাই কমিটি, উত্তর ফতেখাঁরকুল, রামু। যৌথ বাহিনী, আশকরখিল, জোয়ারিয়ানালা, রামু। দারুচ্ছালাম, পূর্ব রাজারকুল, রামু। নৌকা বাইচ টীম, নয়াপাড়া, রাজারকুল, রামু। পি.এম. খালী ক্রিড়া সংঘ, মহসনিয়া পাড়া, কক্সবাজার। পূর্ব দ্বীপ ফতেখাঁরকুল একতা সংঘ, রামু। মোঃ শাহ কোম্পানী, নতুন চরপাড়া, দঃ চাকমারকুল-১, রামু। নতুন বাহিনী তালেব মেম্বার, নোনাছড়ি, জোয়ারিয়ানালা, রামু। শাহমদের পাড়া একাদশ, উত্তর চাকমারকুল, রামু। ইয়াং টাইগার স্পোটিং ক্লাব, শ্রীমুরা, উত্তর চাকমারকুল, রামু এবং কামাল শামশুদ্দিন প্রিন্স, চেয়ারম্যান, জোয়ারিয়ানালা ইউপি, রামু।
১০নং চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ, চকরিয়া, কক্সবাজার, উত্তর চাকমারকুল যুব উন্নয়ন সংস্থা, চাকমারকুল, রামু, গর্জনিয়া বাকঁখালী একাদশ,পূর্ব বোমাংখিল, গর্জনিয়া, রামু, খোন্দকার পাড়া একতা যুব সমাজ, ফতেখাঁরকুল, রামু। চাকমারকুল, কলঘর বাজার, রামু। নওজোয়ান সমিতি পূর্ব রাজারকুল, রামু। ইদ্রিস মাঝি খেলোয়াড় একাদশ, দেয়াংপাড়া, রাজারকুল, রামু। মোহাম্মদ, অফিসের চর, ফতেখাঁরকুল, রামু। পূর্ব খরুলিয়া স্মৃতি ফলক, ঝিলংজা, কক্সবাজার। লম্বরী পাড়া কমিটি, ফতেখাঁরকুল, রামু। সোনার বাংলা খেলোয়াড় একাদশ, পূর্ব মনিরঝিল, কাউয়ারখোপ, রামু। ভাই ভাই সমিতি, পশ্চিম নোনাছড়ি, জোয়ারিয়ানালা, রামু,মোঃ শাহ কোম্পানী, নতুন চরপাড়া।