টেকনাফে অপহৃত দুই কিশোরীকে ৩ দিন পর উদ্ধার

টেকনাফে অপহৃত দুই কিশোরী ৪৮ ঘন্টা পরও উদ্ধার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে রোহিঙ্গা ডাকাত দলের হাতে অপহরণ হওয়া সেই দুই কিশোরীকে তিনদিন পর উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

তথ্য সুত্র মতে, ২০ অক্টোবর ভোর রাত আড়াইটার দিকে শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিমের নেতৃত্বে একদল ডাকাত টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শীলখালী মাঠপাড়া এলাকার ‘হেডম্যান’ আবুল কালামের বসতবাড়ির দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার নগদ টাকা লুট করার পাশাপাশি তার স্কুল পড়ুয়া ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী লাকি আক্তার (১২)ও তসলিমা আক্তার (১৪) নামের দুই কিশোরি মেয়েকে অপহরণ করে গহীণ পাহাড়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার ওই রাত থেকে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে মেয়ে দু’টোকে উদ্ধার করার জন্য পুলিশ সদস্যরা বেশ কয়েকবার সাঁড়াশী অভিযান পরিচালনা করে। অবশেষে ২৩ অক্টোবর টেকনাফ থানা ও বাহারছড়া ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সাঁড়াশী অভিযান পরিচালনা করে ভোর রাত ৩টার দিকে গহীণ পাহাড়ের ভেতর থেকে অপহরণ হওয়া দুই মেয়েকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

এই খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন টেকনাফের সাধারণ মানুষ।

উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরীর বড় ভাই শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র মোঃ রেদুয়ান বলেন, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ ও সংবাদ কর্মীদের আন্তরিকতার কারণে ডাকাত দলের হাতে অপহরণ হওয়া আমার দুই কিশোরী বোনকে ফিরে পেয়ে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ২০ অক্টোবর রোহিঙ্গা ডাকাত দলের হাতে অপহরণ হওয়া দুই কিশোরীকে উদ্ধার করার জন্য গহীন পাহাড়ে পুলিশ সদস্যরা বেশ কয়েকবার সাঁড়াশী অভিযান পরিচালনা করেন। ওই অভিযানে ডাকাত দল দিশেহারা হয়ে পড়ে।

তিনি জানান, ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে পুলিশের একটি দল আবারও একটি সাঁড়াশী অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত দলের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে দুই কিশোরীকে রেখে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। অবশেষে পুলিশ অসুস্থ অবস্থায় দুই মেয়েকে উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, তাদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুস্থ হলে ঘটনার মূল রহস্য কি জানতে পারবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অধিবাসীদের সূত্রে জানা যায়, অপহরণ হওয়া দুই কিশোরীকে উদ্ধার করার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবার সদস্যরা ডাকাত দলের দাবীকৃত মুক্তিপণ দেয়ার পর তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে মুক্তিপণ দেয়ার সঠিক কোন তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি!

এব্যাপারে উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরীর বাবা, হেডম্যান আবুল কালামের মোবাইলে ঘটনার আসল রহস্য কী জানতে ফোন করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ‌্যার দিকে অপহরণ হওয়া দুই কিশোরীর বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিমকে প্রধান আসামি করে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম ও তার সহযোগীদের নির্মুল করার জন্য স্থানীয় আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বেশ কয়েকবার সাঁড়াশী অভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই অভিযানে এবং কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার আপন ভাই, স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ডাকাত নিহত হয়েছিল।