ডাকাতদল মুক্তিপণ দাবি করছে ৫ লাখ টাকা

টেকনাফে অপহৃত দুই কিশোরী ৪৮ ঘন্টা পরও উদ্ধার হয়নি

টেকনাফে অপহৃত দুই কিশোরী ৪৮ ঘন্টা পরও উদ্ধার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের গহীন পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম ও তার সহযোগী ডাকাত দলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে নানা ধরণের অপরাধ প্রবনতা।

সুত্র মতে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ, মানুষ হত্যাসহ এমন কোন অপরাধ নেই যা তারা সংঘটিত করছে না এই ডাকাত বাহিনী। ডাকাত দলের সদস্যরা গহীন পাহাড়ে আস্তানা তৈরি করার পর প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসি কর্মকান্ড সংঘটিত করছে। এই কারণে ভয় আর আতংকে দিন কাটাচ্ছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় জনসাধারণ।

তারই ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর ভোর রাত আড়াইটার দিকে শীর্ষ রোহিঙ্গা হাকিম ডাকাতের নেতৃত্বে একদল ডাকাত টেকনাফের উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়া শীলখালী মাঠপাড়া এলাকার ‘হেডম্যান’ আবুল কালামের বসতবাড়ির দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা লুট করার পর আবুল কালামের স্কুল পড়ুয়া দুই কিশোরি মেয়েকেও অপহরণ করে নিয়ে যায়। অথচ অপহরণের দীর্ঘ ৪৩ ঘন্টা পরও স্কুল পড়ুয়া দুই কিশোকীকে উদ্ধার করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন!

তবে অপহরণ হওয়া দুই মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য টেকনাফ থানা ও বাহারছড়া ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সাঁড়াশী অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এব্যাপারে অপহরণ হওয়া দুই কিশোরীর বড় ভাই, শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র মোঃ রেদুয়ান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ২০ অক্টোবর ভোর রাত ৩টার দিকে রোহিঙ্গা ডাকাত দলের সদস্যরা ৬ষ্ট শ্রেনীতে পড়ুয়া আমার দুই বোন লাকি (১২) ও তসলিমাকে (১৪) অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারপর থেকে তারা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছে। তাদের দাবি মেনে নিলে দুই বোনকে ছেড়ে দেবে।

রেদুয়ান বলে, রোহিঙ্গা ডাকাত দলের হাতে জিম্মি হয়ে থাকা আমার দুই বোনকে উদ্ধার করার জন্য স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

‘অধরা’ হাকিম ডাকাতের স্ত্রী-ভাই ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, অপহৃত যুবক উদ্ধার

এই সেই আবদুল হাকিম ডাকাত।

এব্যাপারে টেকনাফ থানার আওতাধীন বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ডাকাতদের হাতে অপহরণ হওয়া দুই কিশোরীকে উদ্ধার করার জন্য আমরা বিভিন্ন কৌশল হাতে নিয়েছি। পাশাপাশি মেয়ে দুটোকে উদ্ধার করার জন্য আমাদের পুলিশ সদস্যদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পেলে খুব শীঘ্রই তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে আমরা সক্ষম হবো, বলেন তিনি।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধার দিকে অপহরণ হওয়া দুই কিশোরীর বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিমকে প্রধান আসামী করে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা রুজু করেছেন।

প্রসঙ্গত, শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত ‘আব্দুল হাকিম’ কয়েক বছর ধরে গহীন পাহাড়ে আত্মগোপনে থেকে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক, মানব পাচার, ডাকাতি, অপহরণ, মানুষ হত্যাসহ নানা প্রকার অপরাধ সংঘটিত করে আসছে।

তথ্য সুত্রে দেখা যায়, হাকিম ডাকাতকে আটক করার জন্য স্থানীয় আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বেশ কয়েকবার সাঁড়াশী অভিযান পরিচালনা করেছিল। ওইসব অভিযানে এবং কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার আপন ভাই, স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ডাকাত নিহত হয়েছিল। কিন্তু এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে শীর্ষ ‘আলোচিত’ সেই রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম।

এদিকে গহীন পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা হাকিম ডাকাত ও তার সহযোগীদের দমন করার জন্য টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের সাঁড়াশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।