ডাকাতি শেষে ঘরের দুই কিশোরী মেয়েকে অপহরণ করল হাকিম ডাকাত!

টেকনাফে অপহৃত দুই কিশোরী ৪৮ ঘন্টা পরও উদ্ধার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে গহীন অরণ্যে লুকিয়ে থাকা শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম ও তার সহযোগীরা সক্রিয় হয়ে আবারও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড সংঘটিত করার অভিযোগ উঠেছে। এই হাকিমের বিরুদ্ধে ডাকাতির পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়া দুই কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ মিলেছে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য জানা যায়,
২০ অক্টোবর ভোর রাত ৩টার দিকে হাকিম ডাকাতের নেতৃত্বে একদল ডাকাত টেকনাফ উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ার শীলখালী মাঠপাড়া এলাকার হেডম্যান আবুল কালামের বসতবাড়িতে ঢুকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে। পরে যাওয়ার পথে স্কুল পড়ুয়া দুই কিশোরি মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

জানা যায়, অপহৃত দুই কিশোরী শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হুমায়ুন কাদের জানান, সংঘটিত ঘটনার খবরটি পাওয়ার সাথে সাথে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয়া হয়। পরে ফাঁড়ির তদন্তকারি ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অপহরণ হওয়া দুই কিশোরীকে উদ্ধার করার জন্য পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে বেশ কয়েক ঘন্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অপহরণ হওয়া দুই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গগত, শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত এই আব্দুল হাকিম গত কয়েক বছরের মধ্যে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক, মানব পাচার, মানুষ হত্যাসহ এমন কোন অপরাধ নেই যা সংঘটিত করেনি।

এদিকে হাকিম ডাকাতকে আটক করার জন্য স্থানীয় আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বেশ কয়েকবার সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছিল।

তথ্য সুত্রে জানা যায়, ওই অভিযানে ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার আপন ২ ভাই, স্ত্রীসহ তার সহযোগী বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ডাকাত নিহত হয়। কিন্তু শীর্ষ আলোচিত রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম এখনও রয়ে গেল অধরা!

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শামলাপুর পলিশ ফাঁড়ির তদন্তকারি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থল পৌছে গহীন পাহাড়ে বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়।

তিনি জানান, অপহরণ হওয়া দুই মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য পুলিশের অভিযান এখনো অব্যাহত আছে।