এমপি বদির মেয়ের বিয়েও এমন ছিল না

উখিয়ায় চাউল বিক্রেতার ‘রাজকীয় বিয়ে’!

উখিয়ায় চাউল বিক্রেতার ‘রাজকীয় বিয়ে’!

প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের অন্যতম কাছের উপজেলা উখিয়ার রতœাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়ায় এক চাউল বিক্রেতার বিয়ে হয়েছে রাজকীয় আয়োজনে। বিয়ের মঞ্চ থেকে শুরু করে প্যান্ডেল, সবই ছিল রাজকীয় স্টাইলে। তারকামানের হোটেলের রূপ নেয়া সেই আয়োজনে কয়েক হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা ছিল এই বিয়েতে। ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে অনেক ভিআইপিও অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলার প্রচুর দলীয় নেতা-কর্মীও অংশগ্রহণ করেন। অনেকেই বলছেন, উখিয়া-টেকনাফের সাবেক আলোচিত সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির মেয়ের বিয়ের আয়োজনকেও হার মানিয়েছে এই বিয়ের আয়োজন। যেমন খাবার-দাবারে রাজকীয় ভাব, তেমনি আলিশান করা হয়েছে সব ব্যবস্থাপনাও।

সামান্য একজন চাউল বিক্রেতা কিভাবে ‘ধনীর ঘরের দুলাল’ হলো- এই প্রশ্ন উখিয়ার সাধারণ মানুষের। যে যাই বলুক- এমন বিয়েই হয়েছে উখিয়ার ভালুকিয়া গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে ফিরোজ মিয়ার বিয়েতে।

উখিয়ায় চাউল বিক্রেতার ‘রাজকীয় বিয়ে’!

সূত্র মতে, কক্সবাজার শহরে টেকপাড়ায় ‘আমিন ট্রেডার্স’ আর ‘আমিন গ্যাস হাউস’ নামে তাদের দুইটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর ফিরোজ আর বড় ভাই আমিন মিয়া চাউলের দোকান করেন। মেঝো ভাই তোফাইল করেন আরএফএল গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা।

ভালুকিয়ার স্থানীয় সচেতন মানুষ মনে করেন, এই পর্যন্ত ভালুকিয়া ছাড়া সমগ্র উখিয়াতেই হয়নি এই ধরণের ব্যয়বহুল বিয়ের আয়োজন। বৈধ ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ব্যবসা না থাকলে কখনো এই ধরণের রাজকীয় আয়োজনে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে পারতো না তারা।

সূত্রের দাবি, বরের বাড়ির যে মাঠে বিয়ের আয়োজন হয়েছে ওটি ছিল পুকুর। পুকুরটি ভরাট করতেই লেগেছে দুই লাখ টাকারও বেশি। ছোট-খাটো ব্যবসা থেকে আয় করে কোটি টাকার ব্যয়বহুল বিয়ের আয়োজন করতে এতো টাকা পেলো কোথায়- এমন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে ভালুকিয়া গ্রামে।


আয়োজনে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, মূল ফটক থেকে বর-কনের মঞ্চ, খাবারের প্যান্ডেল পর্যন্ত অপূর্ব কারুকাজ ছিল। অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে সাজসজ্জার সরঞ্জামাদি আনা হয়।

বিষয়টি জানতে ফোন করা হয়েছিল রতœাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ খাইরুল আলম চৌধুরীকে। তিনি জানান, ডেকোরেশনের কাজগুলো ব্যয়বহুল হয়েছে। তবে কয়েকটি গরু ছাড়া বেশি জবাই হয়েছে বলে মনে হয় না।

চেয়ারম্যান খাইরুল বলেন, ‘বরের বাবা কালু মিয়াকে পরামর্শও দিয়েছিলাম প্রচুর টাকা খরচ না করে স্থানীয় মানুষকে খাওয়াতে।

এই ধরণের বিয়ে কখনো তাঁর ইউনিয়নে হয়নি বলেও জানান তিনি।

বরের বড় ভাই তোফাইল জানান, তাদের ভাইদের মধ্যে সবার ছোট ফিরোজ মিয়া। তাই টাকা-পয়সা বেশি গেলেও একটি সুন্দর আয়োজন করা হয়েছে।

উখিয়ায় চাউল বিক্রেতার ‘রাজকীয় বিয়ে’!

তিনি বলেন, ব্যবসার সুবাদে ভিআইপি মেহেমানদের নিরাপত্তার জন্য উখিয়া থানা থেকে পুলিশ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তাতে রাজি হননি। যদিও টহলরত পুলিশ তাদের সহযোগিতা করেছে বলে জানান তোফাইল।