যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ‘ওএসডি’!

যুবলীগে ‘চৌধুরী অধ্যায়ে’র অবিশ্বাস্য পতন

যুবলীগের প্রতাপশালী চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। স্পষ্টভাষী আর ‘একক সিদ্ধান্তে’ সংগঠন পরিচালনায় সিদ্ধহস্ত ওমর ফারুক হঠাৎ করেই দলের ভেতরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। তাকে বাদ দিয়ে দিব্যি চলছে সবকিছুই। সম্প্রতি চমক জাগানো ক্যাসিনো, জুয়া ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের পরেই দৃশ্যপটের এই আমূল পরিবর্তন।

যুবলীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসসহ দলীয় কোন কর্মসূচিতে ওমর ফারুক চৌধুরীর কোন ভূমিকা নেই। এমনকি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সভাতেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। সংগঠনে তিনি অনেকটা ‘ওএসডি’ অবস্থায় আছেন। আর এর সবকিছুই হয়েছে যুবলীগের অভিভাবক, প্রধান পৃষ্ঠপোষক আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছাতেই।

জানা গেছে, দলীয় কার্যক্রমে অনুপস্থিত ওমর ফারুক চৌধুরী ঘনিষ্ঠ কিছু নেতাকর্মী ছাড়া কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। এমনকি এড়িয়ে চলছেন গণমাধ্যমকেও।

যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ নভেম্বর। কংগ্রেসের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে আগামী ২০ অক্টোবর গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন যুবলীগ নেতারা। ওই বৈঠকে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে উপস্থিত থাকতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে মৌখিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যুবলীগের দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়েছে।

জানতে চাইলে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যুবলীগ চেয়ারম্যানকে ২০ তারিখের বৈঠকে উপস্থিত না থাকার একটি বার্তা আমাদের কাছে আছে। আমরা সেটা মেনে চলব। অন্যান্য যে বিতর্কিতরা আছে তাদেরও আমরা গণভবনের বৈঠকে সঙ্গে নেব না।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দলের হাইকমান্ডের এই মনোভাবে আরও বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান। একসময় যাদের সঙ্গে দহরম-মহরম সম্পর্ক ছিল তারাও এখন তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই নেতা বলেন, সম্মেলন প্রস্তুতির মিটিংয়ে যেতে না পারার অর্থ হলো চেয়ারম্যান এখন ওএসডি। নেত্রীর যে মনোভাব, তিনি বিতর্কিত কাউকেই তার সামনে দেখতে চান না। তাই আসন্ন কংগ্রেসেও যুবলীগ চেয়ারম্যান কোন ভূমিকা রাখতে পারবেন না।

গেল মাসের শেষে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান জোরদার হলে যুবলীগ চেয়ারম্যানের নাম বিভিন্নভাবে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসে। অভিযানে আটক যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠতা ও ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে তার সম্পৃক্তার চিত্র গোয়ান্দা সংস্থার প্রতিবেদনে পাওয়া যায় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গত ৩ অক্টোবর যুবলীগ চেয়ারম্যানের সমস্ত ব্যাংক হিসেব তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট। তিনদিন পর রোববার (৬ অক্টোবর) সরকারের অনুমতি ব্যতীত ওমর ফারুক চৌধুরীর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত এক মৌখিক নির্দেশনার কথা জানান ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তারা।

এরপর থেকেই যুবলীগ চেয়ারম্যানকে নিয়ে নানা গুঞ্জন ডালপালা ছড়াতে থাকে। অনেকটা স্বেচ্ছায় অন্তরালে চলে যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

জানা গেছে, হাঠাৎ চাপে পড়ে গ্রেফতার এড়াতে সরকারের শীর্ষ মহলে তদবির শুরু করেন তিনি। এমনকি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বেশ কয়েকবার গণভবনে প্রবেশ করেন ওমর ফারুক। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

সূত্র জানায়, গত ৬ অক্টোবর রাতে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফর শেষে গণভবনে ফিরে এলে সেখানে যুবলীগের চেয়ারম্যানকে দেখে তাকে এড়িয়ে গিয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলেননি। বরং গণভবনে তার উপস্থিতি কিভাবে হলো সেটাও অন্যদের কাছে জানতে চেয়েছেন সরকারপ্রধান।

এরপর শুক্রবার (১১ অক্টোবর) যুবলীগের ৭ম কংগ্রেস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্যরা বৈঠক করেন। সেখানে ওমর ফারুকের বদলে সভাপতিত্ব করেন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। যুবলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কংগ্রেস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

এদিকে দলে তার ভূমিকা ও অবস্থান সংক্রান্ত নানা গুঞ্জন নিয়ে জানার জন্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সবশেষ ২০১২ সালে যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই কংগ্রেসে যুবলীগ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ওমর ফারুক চৌধুরী।
সূত্র: বার্তা টুয়েন্টিফোর।