শতাধিক ‘মাতৃগাছে’র প্রাণ গেল আরআরআরসি অফিসে!

শতাধিক ‘মাতৃগাছে’র প্রাণ গেল আরআরআরসি অফিসে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বড় বড় গাছের সুশীতল ছায়ায় মনোরম পরিবেশে কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়। সুন্দর একটি পরিবেশে সরকারি অফিসটির অন্যরকম একটি আকর্ষণ ও সুনাম ছিল। কিন্তু ওই অফিস আঙিনার বড় বৃক্ষগুলোর বেশির ভাগই এখন কেটে ফেলা হয়েছে। হঠাৎ করে প্রয়োজন ছাড়া কেন শতাধিক বৃক্ষ কাটা হলো- এ নিয়ে কক্সবাজারের পরিবেশ আন্দোলন কর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তাদের দাবি, নতুন যোগদান করা শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মাহবুব আলম তালুকদার কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ‘স্বেচ্ছাচারিতা’র মাধ্যমে কোটি টাকা মূল্যের এই বৃক্ষগুলো কেটে ফেলেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, গাছের ডালপালা কাটার নাম দিয়ে শতাধিক বড় বৃক্ষ কাটা হয়েছে। এর বেশির ভাগই মেহগনি জাতের মাতৃগাছ। এই গাছ কাটার জন্য কোন দরপত্রও আহবান করা হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেয়া হয়নি। স্থানীয় বন বিভাগকেও জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, অফিস আঙ্গিনায় শতাধিক বৃক্ষ কেটে তা টুকরো করে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। আরও কয়েকটি গাছ কাটার জন্য শ্রমিকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত একজন শ্রমিক জানান, কর্তৃপক্ষের আদেশে তারা বড় আকারের অর্ধশত মেহগনি গাছ কেটেছেন। এছাড়াও ছোট আকারের কিছু গাছও কাটা হয়েছে। গাছের গুড়িগুলো কি করা হবে তা কর্তৃপক্ষ জানে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, অফিস ভবনের সংস্কার কাজ চলছে। এই কাজের অংশ হিসাবে অফিস আঙ্গিনায় সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হবে।

শতাধিক ‘মাতৃগাছে’র প্রাণ গেল আরআরআরসি অফিসে!

তিনি বলেন, অফিস আঙ্গিনায় এতো বেশি গাছ হয়েছে, ভবনের উপর সূর্যের আলো পড়ে না। তাই কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আরও কিছু গাছ কাটা হবে। প্রয়োজনে সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে।

গাছগুলো কাটা ও বিক্রির জন্য কোন টেন্ডার দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হয়েছে।

তবে বন বিভাগ ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

এই বিষয়ে কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) শাহ আলম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি কোন গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। বন বিভাগের কর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে গাছের পরিমাপ করে মূল্য নির্ধারণ করেন। সরকারি একটি ফি নিয়ে গাছ কাটার অনুমতি দেয়া হয়।

তিনি বলেন, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের আঙ্গিনায় গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগকে অবহিত করা হয়নি।

এদিকে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় প্রাঙ্গনের শতাধিক বৃক্ষ কাটার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদ।

সংগঠনের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ওই স্থানে নতুন কোন ভবন না হলেও শতাধিক মাতৃগাছ এভাবে কেটে ফেলার কোন কারণ নেই। এতে কক্সবাজার শহরের জন্য পরিবেশের ক্ষতির কারণ হবে।

তিনি বলেন, বড় বড় গাছের ছায়ায় আরআরআরসি অফিসটি দর্শণার্থীদের জন্যও আকর্ষণ ছিল। এখানে অনেক পাখির আবাসস্থল ছিল। এখন একজন কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনার কারণে শতাধিক মাতৃগাছের প্রাণ গেল। পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।