ঐতিহ্যবাহী জাহাজ ভাসানো উৎসব কাল

রামুতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা উৎসব শুরু, উড়লো শত ফানুস

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

দুইদিনের নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে রামুতে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। সোমবার (১৪ অক্টোবর) রামুর বাঁকখালী নদীতে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী জাহাজ ভাসানো উৎসব।

রোববার (১৩ অক্টোবর) ভোরে বুদ্ধ পূজা, অষ্টশীল গ্রহণ, বিহার প্রাঙ্গনে হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন, আকাশে ফানুস উড়ানো, আতশ বাড়ি প্রদর্শনী এবং সবশেষে জগতের সকল প্রাণীর সুখ এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় সমবেত প্রার্থনা।

সোমবার নানা ধর্মীয় আচার-আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করবে রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি ও রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের সহকারী পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে রোববার ভোরে বুদ্ধের সামনে অর্ঘ্যদানের মধ্যদিয়ে রামুর বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে দুইদিনের কর্মসুচি শুরু হয়েছে। এরপর সকালে গৃহীরা অষ্টশীল গ্রহণ করেছেন। বিকাল থেকে আকাশে ওড়ানো হয় রঙ-বেরঙ-এর শত শত ফানুস বাতি।

তিনি বলেন, গত ৩ অক্টোবর বাংলাদেশী বৌদ্ধদের উপসংঘরাজ, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের অধ্যক্ষ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথেরর প্রয়াণে বিশেষ করে রামুতে এখনো শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। যে কারণে এবারের প্রবারণায় ততটা উৎসবের আমেজ ছিলো না।

সন্ধ্যায় রামু লাল চিং-মৈত্রী বিহারের সামনের মাঠ থেকে ওড়ানো হয় অসংখ্য ফানুস। একের পর এক ফানুসের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে সন্ধ্যার আকাশ। যেন পূর্ণিমার চাঁদের সঙ্গে একাকার হয়ে ওঠেছিল ফানুসগুলো। আর বিহার প্রাঙ্গনে আয়োজন করা হয় হাজারো প্রদীপ প্রজ্বলনের।

জানা গেছে, রামু কেন্দ্রী সীমা মহাবিহার, রাংকূট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহার, রামু মৈত্রী বিহার, লাল চিং, সাদা চিং, অপর্ণা চরণ বৌদ্ধ বিহার, চেরাংঘাটা উসাইসেন বৌদ্ধ বিহার (বড় ক্যাং), উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বন বিহার, বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে শুভ প্রবারণা উপলক্ষে ভোরে বুদ্ধপূজা, সকালে সংঘদান ও অষ্টপরিস্কার দান, পঞ্চশীল গ্রহণ, বিকালে ধর্মসভা, সন্ধ্যায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জলন, আকাশে ফানুস বাতি উত্তোলন ও দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

রামুতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা উৎসব শুরু, উড়লো শত ফানুস

সোমবার বাঁকখালী নদীর চেরাংঘাটাস্থ ঘাটে আয়োজন করা হবে ঐতিহ্যবাহী কল্প জাহাজ ভাসানো উৎসব। ইতিমধ্যে জাহাজ ভাসানো উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ত্রিপিটক থেকে পাঠ, অতিথি বরণ, পূজনীয় পন্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের’র মহাপ্রয়ানে কালো ব্যাচ ধারণ, কল্প জাহাজ উৎসবের শুভ উদ্বোধন ও জাহাজ পরিদর্শন, আলোচনা সভা, অতিথিদের সম্মাননা প্রদান, পূজনীয় পন্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের মহাপ্রয়ানে নদীতে প্রদীপ ভাসানোর মাধ্যমে পূণ্যার্পন।

জাহাজ ভাসা উৎসবে আর্শিবাদক থাকবেন শ্রীকুল পুরাতন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত উ. ছেকাছারা মহাথের, উদ্বোধক সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, বিশেষ অতিথি ভারতীয় হাই কমিশনার মিস রিভা গাঙ্গুলি, এটিএন নিউজের নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহা, জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্ত ভূষণ বড়–য়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি চাই থোয়াইহুলা চৌধুরী, রামু থানার ওসি মো. আবুল খায়ের, ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, জেলা পূজা উদযডাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা, রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরুণ বড়–য়া ও সাধারণ সম্পাদক রাজু বড়–য়া, জেলা যুবলীগ নেতা পলক বড়–য়া আপ্পু, রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়–য়া, জেলা বৌদ্ধ সম্প্রীতি পরিষদের আহবায়ক অমরবিন্দু বড়–য়া, সাংবাদিক খালেদ হোসেন টাপু, এটিএননিউজের জেলা প্রতিনিধি অর্পন বড়–য়া।

স্বাগত বক্তব্য রামু কেন্দ্রীয় প্রবারণা পূর্নিমা ও জাহাজ ভাসা উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক স্বপন বড়–য়া, সভাপতিত্ব করবেন রামু কেন্দ্রীয় প্রবারণা পূর্নিমা ও জাহাজ ভাসা উদযাপন পরিষদের জ্যোতিময় বড়–য়া রিগ্যান, সঞ্চালনা করবেন রামু কেন্দ্রীয় প্রবারণা পূর্ণিমা ও জাহাজ ভাসা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিথুন বড়–য়া বোথাম।