সরকারের উন্নয়ন বিএনপির সহ্য হয় না, মনে করছেন তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন দেশ উন্নয়নের দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই উন্নয়ন বিএনপির সহ্য হয় না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য চুক্তি করে তখন বিএনপির শিক্ষিত নেতারা তা অপব্যাখ্যা দিয়ে নানা সমালোচনায় মেতে উঠেন। কিন্তু বিএনপির আবুল-তাবুল এসব অপপ্রচার দেশের মানুষ এখন খায় না।

শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের কাছের উপজেলা রামুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যবর্গ এবং রামু উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে যেসব কীর্তিমান ভূমিকা রেখেছেন তাদের ইছালে ছওয়াব (পারলৌকিক শান্তি) কামনায় মিলাদ মাহফিল ও বিশাল মেজবানের আগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে খালি পায়ের মানুষ দেখা যায় না, ছেঁড়া কাপড়ে মানুষ দেখা যায় না। গ্রামে কুঁড়েঘর দেখা যায় না। কুঁড়েঘর থাকলেও তা রান্নাঘর অথবা গোয়ালঘর হিসেবে ব্যবহার হয়। সেই কুঁড়েঘরও এখন টিনের ছাউনি। কুঁড়েঘর এখন শুধু কবিতায় আছে।

তিনি বলেন, যে ছেলে দশ বছর আগে বিদেশে গেছেন তিনি দেশে ফিরে নিজের গ্রাম চিনতে পারে না। গ্রামের যে মেঠোপথ মাড়িয়ে ছেলেটি বিদেশে গিয়েছিল, সেই মেঠোপথ এখন পিচঢালা সড়ক হয়ে গেছে। এভাবেই সারাদেশে এখন উন্নয়নের জোয়ার চলছে।

এই আলোচনা সভায় রামু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল।

রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রিয়াজ উল আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান প্রমূখ।

সভাপতির বক্তব্যে সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের স্পন্দন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রামুতে প্রতিবছর এই মেজবান আয়োজন করা হয়। তবে এবার রামু উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা কীর্তিমান ব্যক্তিদের স্মরণে হওয়ায় আরো বৃহৎ আকারে মেজবান আয়োজন করা হয়েছে।

মেজবানে অতিথিদের মধ্যে অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল, রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক এডভোকেট তাপস রক্ষিত, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ শাহজাহান, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল, দৈনিক কালের কন্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সদস্য, দৈনিক কক্সবাজারের পরিচালনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম ও এডভোকেট আয়াছুৃর রহমান, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মুসরাত জাহান মুন্নী, রামু সহকারি কমিশনার (ভূমি) চাই থোয়াইলা চৌধুরী, রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মো. সালাহ উদ্দিন, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্ত ভূষণ বড়–য়া, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলী হোসেন, কক্সবাজার জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি জহির উল্লাহ সিকদার, চ্যানেল আই ও দৈনিক আমাদের সময় স্টাফ রিপোর্টার সরওয়ার আজম মানিক, দৈনিক সকালের কক্সবাজার পত্রিকার সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, দৈনিক আজকের দেশবিদেশ সম্পাদক এডভোকেট আয়ুবুল ইসলাম, সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরী টিপু, মোর্শেদুর রহমান খোকন ও সুনীল বড়–য়া, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য তাহমিনা হক চৌধুরী লুনা ও নুরুল হক কোম্পানী, কক্সবাজার জেলা যুবলীগ সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল, আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আহমদ মাস্টার, ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার, খুনিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ, রাজারকুল ইউপি চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান, গর্জনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ ভূট্টো, জোয়ারিয়ানালা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো, কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইসমাইল মো. নোমান, কাউয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, রশিদনগর ইউপি চেয়ারম্যান এমডি শাহ আলম, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল গনি চেয়ারম্যান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কবির মেম্বার, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সদস্য কৃতি ফুটবলার বিজন বড়–য়া, আওয়ামী লীগ নেতা মীর কাসেম হেলালী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো ও নুরুল আমিন কোম্পানী, জেলা সৈনিক লীগের সভাপতি তৈয়ব উল্লাহ মাতব্বর, সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান, রামু ব্রাদার্স ইউনিয়নের সভাপতি নবু আলম, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নীতিশ বড়–য়া প্রমূখ।

দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত এই মেজবানে কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী, সরকারি দপ্তর, কলেজ, মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারি, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকসহ সর্বস্তরের জনতা অংশ নেন।

মেজবানের জন্য মাঠে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের জন্য ১১টি প্যান্ডেলে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া কক্সবাজার সদর উপজেলার মেহমান, সাংবাদিক এবং বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক প্যান্ডেলে মেজবানের আয়োজন করা হয়।