বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে এনজিওরা, নেতৃত্বে ‘আইওএম’!

৭ দিনের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মোবাইলসেবা বন্ধের নির্দেশ

মিয়ানমার জান্তা সরকারের নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের দিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) গুলোর বাংলাদেশবিরোধী ষড়ডন্ত্র দিনে দিনে গভীর হচ্ছে। ‘মুক্তি কক্সবাজার’ এনজিওর রোহিঙ্গদের জন্য সরবরাহ করা ‘দেশীয় অস্ত্রে’র চালান ধরার পড়ার পর এবার ধরা পড়লো এক দেশীয় অস্ত্রের চালান। এবারও আরেক বিতর্কিত এনজিও ‘শেড’ ওই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রোহিঙ্গাদের মধ্যে সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বৃহস্পতিবার উখিয়া থেকে এসব দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে প্রশাসন।

চাষের সরঞ্জামের নাম করে রোহিঙ্গাদের এসব দেশীয় অস্ত্র সরবরাহ করাকে ‘অশনি সংকেত’ হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। এনজিওদের এই অপতৎপরতায় বাংলাদেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র প্রত্যক্ষ হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। স্থানীয় অধিবাসীরা মনে করেন, এনজিওদের এই ষড়যন্ত্র রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। খবর সিবিএনের।

বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে এনজিওরা, নেতৃত্বে ‘আইওএম’!

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানবতার দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সহযোগিতা করেছেন। তবে কোনো ভাবেই এত বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গাকে ঠাঁই দেয়া সম্ভব কখনই হবে না। তারপরও মানবতার খাতিরে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের মোড় এখন ভিন্ন দিকে। তারা এখন বাংলাদেশ ছেড়ে না যেতে অনড় অবস্থান নিয়েছে! দিনে দিনে তারা বাংলাদেশে থেকে যেতে প্রত্যাবাসনের উল্টো দিকে হাঁটছে। এতে বহু প্রচেষ্টায় আয়োজন করা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দুইবার ভেস্তে গেছে।

শুরু থেকেই অভিযোগ উঠে, এনজিওগুলো প্রত্যাবাসনে বিরোধিতা করছে। এনিয়ে স্থানীয়রা শুরু থেকেই ক্ষুব্ধ। সোচ্চার রয়েছেন সুশীল মহলও। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সেভাবে ব্যবস্থা না নেয়ায় এনজিওরা এখন বাংলাদেশের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এনজিওদের বাধার কারণেই দুইবার রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে। তারা একটি বৈশ্বিক ‘কালো’ শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং নিজেদের আখের গোছানোর জন্যই প্রত্যাবাসনে কঠোরভাবে বিরোধিতা করছে। বিদেশী মিডিয়াগুলোও প্রত্যাবাসন বিরোধিতায় ‘উদ্দেশ্যমুলক’ ভাবে কাজ করছে।

বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে এনজিওরা, নেতৃত্বে ‘আইওএম’!

সর্বমহলের অভিযোগ, এনজিওদের আস্কারা পেয়ে রোহিঙ্গারা দিনে দিনে বেপরোয়ার হয়ে উঠেছে। স্বদেশে ফিরে যাওয়া তো দূরের কথা; তারা এখন বাংলাদেশে চিরদিন থেকে যেতে প্রকাশ্য ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। একই সাথে তারা ‘ওভার কনফিডেন্স’ হয়ে এখন স্থানীয়দের উপর চড়াও হচ্ছে। তাদের সর্বশেষ শিকার হয়েছেন হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকার যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক। তাকে নির্দয় ভাবে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

এনজিও ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশবিরোধী এই অপতৎপরতায় বড় ধরণের ধৃষ্টতা হলো, গত ২৫ আগষ্টের অকল্পনীয় রোহিঙ্গা সমাবেশ। এই সমাবেশের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা কার্যত বাংলাদেশকে বড় ধরণের হুমকি দিয়েছে। এই সমাবেশের পরপরই উখিয়া থেকে এনজিও ‘মুক্তি কক্সবাজার’ কর্তৃক সরবরাহের জন্য বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র জব্দ এই আশঙ্কার চূড়ান্ত রূপ বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার উখিয়া থেকে এনজিও ‘শেড’ কার্যালয় থেকে আইওএম’র লোগো সম্বলিত বিপুল দেশীয় অস্ত্র জব্দ করেছে প্রশাসন।

রোহিঙ্গা ভয়ংকর, তার'চে ভয়ঙ্কর কে বেশী?

এই ঘটনায় এখন সর্বত্র তোলপাড় চলছে। এই ঘটনার পর থেকে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় লোকজন। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা কেন্দ্রিক এনজিওদের বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র অনেক গভীর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘আইওএম’ নিয়ে সন্দেহটা মারাত্মকভাবে প্রকট হয়েছে। কারণ ‘আইওএম’র বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসন বিরোধিতার বেশ অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন লোকজন বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে এনজিওদের ষড়যন্ত্র তলে তলে অনেক গভীর হয়েছে। তবে এখনো সময় আছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করার। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তবে আর সম্ভব হবে না। প্রত্যাবাসন প্রতিক্রিয়া যতই পিছিয়ে যাবে ততই আশঙ্কা আরো বাড়বে। এতে রোহিঙ্গাদের প্রভাবও বাড়বে। সেই সাথে বাড়বে এনজিওদের দৌরাত্ম্যও। তাই এখনই সময় এনজিওগুলোর লাগাম টেনে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা দরকার। তা নাহলে খুব শিগগিরই এর মাশুল গুনতে হবে বাংলাদেশকে।

এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিয়ে এনজিওগুলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে। তারা বাংলাদেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করছি তারা একটি বৈশ্বিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তাদের যদি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে আমাদের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।’

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!