আলোচিত রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ বন্দুকযুদ্ধে নিহত

টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরে ‘রোহিঙ্গা ডাকাত’ দলের গুলিবর্ষণ, দুইজনকে গণধোলাই

আনছার হোসেন
সম্পাদক

হেলাল উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও আলোচিত রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুরে এক সহযোগীসহ আটক হওয়ার পর রোববার মধ্যরাতে তিনি কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেলেন।

নিহত নুর মোহাম্মদ রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বঘোষিত নেতা ছিলেন। সম্প্রতি তার মেয়ের কর্ণছেদন অনুষ্ঠানে সহযোগী ও ইয়াবা কারবারিরা এক কেজি পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও ৪৫ লাখ নগদ টাকা উপহার দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছেন, জনতার হাতে পাকড়াও হওয়া নুর মোহাম্মদকে নিয়ে পাহাড়ী আস্তানায় অস্ত্র উদ্ধারে গেলে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ওই ঘটনা ঘটে। ওই সময় টেকনাফ থানার পুলিশ পরিদর্শকসহ (তদন্ত) তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। তবে বন্দুকযুদ্ধের পর বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুত্র মতে, রোববার (পহেলা সেপ্টেম্বর) ভোর পৌণে ৬টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহার নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ একটি দল ধৃত শীর্ষ ডাকাত নুর মোহাম্মদকে (৩৪) নিয়ে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা ২৭ নাম্বার ক্যাম্পের পাহাড়ী জনপদে গড়া বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ভান্ডার উদ্ধার অভিযানে যায়।

পুলিশের দাবি, ওই সময় রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠন ও মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের সশস্ত্র সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে নুর মোহাম্মদকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহা (৩৬), কনস্টেবল আশেদুল (২১) ও অন্তর চৌধুরী (২১) আহত হন।

সে সময় আত্মরক্ষায় পুলিশও আধা ঘন্টা ধরে ৪০/৫০ রাউন্ড পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। এক সময় হামলাকারীরা পিছু হটে গভীর পাহাড়ের দিকে চলে যায়।

শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ ও তার দলের অজানা তথ্য!

পরে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ৪টি এলজি, ১টি থ্রি কোয়াটার রাইফেল, ১৮ রাউন্ড গুলি, ২০ রাউন্ড খালি খোসাসহ গুলিবিদ্ধ নুর মোহাম্মদকে পাওয়া যায়। গুলিবিদ্ধ নুর মোহাম্মদকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, মোস্ট ওয়ানন্টেড একাধিক মামলার পলাতক আসামী ও যুবলীগ নেতা ওমর হত্যা মামলার আসামী নুর মোহাম্মদকে নিয়ে আস্তানায় অভিযানে গেলে তার বাহিনীর গুলিতে থানা পুলিশের ইন্সপেক্টরসহ (তদন্ত) ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলিবর্ষণ করে।

তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ নুর মোহাম্মদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী, মাদক কারবারী ও রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বঘোষিত নেতা নুর মোহাম্মদ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। অনেকে মিষ্টিও বিতরণ শুরু করছেন।

 

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!