উখিয়া-টেকনাফবাসির প্রশ্ন

১১ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা শেষ হবে কবে!

সেপ্টেম্বরের আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আশা

নূরুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বাংলাদেশে আশ্রিত ১১ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা শেষ হচ্ছে কবে! এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। এই বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর কারণে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশ। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হলে দিন দিন ভয়াবহ পরিস্থিতির আশংকা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আজ থেকে দুই বছর আগে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বেশ কিছু সীমান্ত চৌকিতে একযুগে সন্ত্রাসি হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। রোহিঙ্গাদের উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন, সে দেশের সামরিক বাহিনী চালায় হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ নিপীড়ন। তা সহ্য করতে না পেরে রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা। এ সকল রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দুই বছর কেটে গেল। এরা উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার পাহাড় ও তৎসংলগ্ন আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। এ সকল রোহিঙ্গাদের নিয়ে গড়ে উঠেছে ৩৪টি আশ্রয় শিবির।

তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭ জন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। জাতিগত নিধন ও গণহত্যায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি স¤পন্ন হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্রথম দফা প্রত্যাবাসনের দিন ধার্য্য করে সেদিনও রোহিঙ্গাদের গড়িমসি ও বিক্ষোভের মাঝে প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হয়। এরপর ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের দিন ধার্য করে প্রত্যাবাসনের জন্য ৩ হাজার ৪৫০ রোহিঙ্গার নামের তালিকা পাঠায় মিয়ানমার। এ তালিকায় ছিল টেকনাফের ২৪, ২৬ ও ২৭ নাম্বার ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা। এতে ২৬ নাম্বার শালবাগান ক্যাম্প থেকে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক রোহিঙ্গার নাম ছিল।

শিবিরে ইয়াবা ও মানবপাচার বন্ধে রোহিঙ্গা নেতারা তৎপর

তবে রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, সহায়সম্বল ফেরত ও মিয়ানমারে আইডিপি ক্যা¤েপ থাকা রোহিঙ্গাদের যাবতীয় সুবিধা নিশ্চিতের দাবি তুলে স্ব-ইচ্ছায় ফিরতে অনিহা প্রকাশ করায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফের ব্যবসায়ী মোঃ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এদের কারণে দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থা হলে রোহিঙ্গাদের ফেরার সম্ভাবনা দেখছি না। বাংলাদেশকে যে কোন উপায়ে রোহিঙ্গা ফেরতের ব্যবস্থা করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। নানা অপরাধে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। যার ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সমূহ অপরাধের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এরা হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, মানব পাচার ও মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্টির কারণে আর্থ-সামাজিক অবস্থার বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ফলে নানা সমস্যা ও সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এই দুই উপজেলার শ্রম বাজারেও প্রভাব ফেলেছে রোহিঙ্গা। বিশেষ করে হাটবাজার, দোকানপাট, যানবাহনসহ সব কাজে সল্প টাকায় শ্রম বাজার দখলে নিয়েছে তারা। ফলে স্থানীয়রা সব কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে যুবলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে হত্যা করা হয়। তিনি হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা এলাকার আব্দুল মোনাফ কো¤পানির ছেলে। পরের দিন ওমর ফারুক হত্যার প্রতিবাদে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের জাদিমুরা ও মুচনী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে সাধারণ মানুষ। এসময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ আশপাশের এনজিওর অফিসেও ভাংচুর চালানো হয়।

এদিকে শনিবার পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই হত্যা মামলার আসামী দুই রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে গলা কেটে হত্যা করা হয় লেদা এলাকার শামসুল আলমকে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে স্থানীয় কিছু যুবক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব নিয়ে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বিরাজ করছে আতংক।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!