জানাজায় শোকাহত মানুষের ঢল

যুবলীগ নেতা হত্যার প্রতিবাদে ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ, হত্যাকারি রোহিঙ্গার বাড়িতে আগুন

হেলাল উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক খুনের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, ভাংচুর, বিক্ষোভ ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর বাড়িতে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

শুক্রবার (২৩ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করে হত্যায় জড়িত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নুর মোহাম্মদ মাঝির বাড়িতে আগুন দেয়। এর পর সড়কের পাশে রোহিঙ্গাদের দোকান-পাট ভাংচুর করে সড়ক অবরোধ করে।

বিক্ষোভ চলাকালিন সময় বিভিন্ন এনজিওর গাড়ী ও অফিস ভাংচুর করা হয়। সড়কে আগুন জ্বালিয়ে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করায় সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবুল মনসুর ও টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন এবং অবরোধকারীদের সাথে আলোচনা করেন। ওই সময় সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে দুপুর দেড়টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

যুবলীগ নেতা হত্যার প্রতিবাদে ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ,  হত্যাকারি রোহিঙ্গার বাড়িতে আগুন

এসময় জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম ও হ্নীলা ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী, ক্যাম্পে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে ওমর ফারুকের লাশ বাড়ীতে আনলে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাদে মাগরিব জাদিমোরা এম আর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় শোকাহত মানুষের ঢল নামে।

জানাজার পূর্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদি, জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, হ্নীলা ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী ও মরহুমের ভাই ওসমান।

এতে বক্তারা প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে উখিয়া-টেকনাফে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে সকল এনজিওর কার্য্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে রোহিঙ্গাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হবে।

যুবলীগ নেতা হত্যার প্রতিবাদে ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ,  হত্যাকারি রোহিঙ্গার বাড়িতে আগুন

তারা বলেন, মানবতার খাতিরে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন বলে তারা যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াবে তা স্থানীয়রা মেনে নেবে না।

জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে সচেতন মহল মনে করেন, নিহত ওমর ফারুক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকালে নিজ বাড়িতে রান্না করে রোহিঙ্গাদের মুখে খাবার তুলে দেয়ার পাশাপাশি নিজ পৈত্রিক জমিতে প্রায় ৫ হাজার পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছেন। তাকে নির্মমভাবে গুলি করে নৃশংশভাবে খুনের ঘটনা রোহিঙ্গা জাতির অকৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।

এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, এই ঘটনায় নিহতের পরিবার যাদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করবে পুলিশ সে অনুসারে কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবুল মনসুর জানান, গতরাতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকান্ডের জের ধরে সকাল হতে বিক্ষুদ্ধ জনসাধারণ প্রধান সড়ক অবরোধ ও ভাংচুর চালানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এই ঘটনার সুবিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা চলে যায়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা বাজার এলাকায় ঠিকাদারী কাজের ইট অপসারণের সময় রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী এবং মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণকারী গডফাদার ডাকাত সেলিম, নুর মোহাম্মদ, জকির, সালমান শাহসহ ১০/১২ জনের একটি গ্রুপ মাদকাসক্ত হয়ে স্থানীয় জমিদার আব্দুল মোনাফ ওরফে মোনাফ কোম্পানীর ছোট ছেলে জাদিমোরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও হ্নীলা ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ঠিকাদার মোঃ ওমর ফারুককে (৩০) ধরে নিয়ে ছুরিকাঘাত এবং বুক ও মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর বীরদর্পে পাহাড়ে চলে যায়।

পরে স্বজনরা মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে পাঠায়।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!