ঈদগড়ে শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কে ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী, শিক্ষক এহতেশাম কারাগারে

ঈদগড়ে শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কে ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী, শিক্ষক এহতেশাম কারাগারে

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সদরের কাছের উপজেলা রামুর দূর্গম এলাকা ঈদগড় ইউনিয়নের বড়বিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যারা শিক্ষক এহতেশামুল হক ওই স্কুলের ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর ফাঁকে প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে অবৈধ শারিরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেছে। দিনের পর দিন ১২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর সাথে শারিরিক সম্পর্ক করায় শিশুটি বর্তমানে ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এই ঘটনা জানাজানি হলে এহতেশামুল হক শিশুটি অপহরণ করে কয়েকদিন গুম করে রাখে। পরে রামু থানা পুলিশ সদর উপজেলাধীন ঈদগাঁও ইউনিয়নের খোদাইবাড়ি এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে।

এহতেশামুল হক (২৮) ঈদগড় ইউনিয়নের ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের বড়বিল এলাকার আমানুল হকের ছেলে। তার বাবা আমানুল হক সেই স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

রামু থানা পুলিশ অপহৃত ও ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের আগে শিক্ষক নামের কলংকিত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। থানা সূত্র জানিয়েছেন, ধৃত এহতেশামুল হক পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, সে ১২ বছর বয়সী ৫ম শ্রেণীর ওই শিশুটি ছাড়াও আরো অন্তত ৫ জন কিশোরী ও তরুণীর সাথে এভাবে সম্পর্ক গড়ে ছেড়ে দিয়েছে। এরকম ঘটনায় একটি মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে করবে বলেও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়েছে।

এহতেশামুল হক বর্তমানে কক্সবাজারে জেলা কারাগারে রয়েছে। আর অন্তসত্ত্বা শিশুটিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিক্ষকের অবৈধ সম্পর্কে অন্তসত্ত্বা হওয়া শিশুটির বাবা মালয়েশিয়া প্রবাসী ও মা গৃহিণী। তবে তাদের অভাব-অনটনের সংসার। সেই সংসারে ৪ ভাইবোনের মধ্যে বড়বিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিশু ছাত্রীটি দ্বিতীয়।

শিশুটির মা জানিয়েছেন, এহতেশামুল হক বড়বিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খন্ডকালিন শিক্ষক। তার মেয়ে ওই স্কুলের ৫ম শ্রেণীতে পড়ার পাশাপাশি এহতেশামুল হকের কাছে প্রাইভেট পড়তো। প্রাইভেট পড়তে গেলে অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে দিলেও নানা অজুহাতে তার মেয়েকে ছুটি না দিয়ে রেখে দিতো। এভাবে প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে তার মেয়ের সাথে অবৈধ শারিরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে শিক্ষক নামের নরপশু এহতেশামুল হক।
তিনি জানান, মেয়ে ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা হওয়ার পর ঘটনাটি তার নজরে পড়ে। তার আগে মেয়ে তাকে একবারও বিষয়টি বলেনি।

ঈদগড়ে শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কে ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী, শিক্ষক এহতেশাম কারাগারে

শিশুটি মেয়েটি তার মা’কে জানিয়েছে, শিক্ষক এহতেশামুল হক তার সাথে অবৈধ কাজ করার পর ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখাতো, এই ঘটনা যেন কাউকে না বলে। ঘটনা কাউকে বললে তাকে ছুরি মেরে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়। এই ভয়ে শিশুটি ছাত্রীটি ঘটনার কথা কাউকে জানায়নি।

মেয়েটির মা জানান, যে দিন ঘটনা জানাজানি হয় সেদিনই তার মেয়েকে অপহরণ করে গুম করে ফেলা হয়। ২১ জুলাই থেকে ৮ আগষ্ট পর্যন্ত তার মেয়ের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রামু থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের খোদাইবাড়ি এলাকার রাজা মিয়া ড্রাইভার নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে শিশু মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

তিনি জানান, যার বাড়ি থেকে তার মেয়ে উদ্ধার করা হয়েছিল সেই রাজা মিয়া ড্রাইভার এহতেশামুল হকের বাবা আমানুল হকের শ্যালক তবিউল আলমের শ^শুর বাড়ির আত্মীয়। এহতেশামুল হক গ্রেপ্তার আগে তবিউল আলম ও আমানুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী রশিদ বেগমের মাধ্যমে তার মেয়েকে ওই বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিল।

শিশু ছাত্রীটির মা দাবি করেন, ওই বাড়িতে আটকে রেখে আমার মেয়েকে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোন ডাক্তার রাজি না হওয়ায় গর্ভপাত করাতে পারেনি। গর্ভপাত করাতে না পেরে এহতেশামুল হকের বাবা আমানুল হক, তার শ্যালক তবিউল আলম ও আমানুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী রশিদ বেগম ভয় ও প্রলোভন দিয়ে মেয়েকে পুলিশ ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ানোর চেষ্টা করে।

এদিকে রামু থানা সূত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিশু শিক্ষার্থীর সাথে শিক্ষকের অবৈধ সম্পর্ক, ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় থানায় ২৭ জুলাই একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত এহতেশামুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিকটিম শিশুটিকে ৮ আগষ্ট উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ঘটনাটিকে ধামাচাপা ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এহতেশামুল হকের বাবা আমানুল হক ও তার পরিবারের সদস্যরা নানা কিচ্ছাকাহিনী সাজানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অন্তসত্ত্বা শিশুটির মা।
এ ব্যাপারে জানতে বড়বিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির আহমদের মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভড করেননি।

এ ঘটনায় এহতেশামুল হকের বাবা আমানুল হকের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ৫ম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থীর সাথে অবৈধ শারিরিক সম্পর্ক, ঘটনা ধামাচাপা দিতে মেয়েটিকে অপহরণের ঘটনায় শিশুটি মা বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় এহতেশামুল হক ছাড়াও তার ভাই ফরিদুল হক, বাবা আমানুল হক ও মনির আহমদ নামের আরেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে এহতেশামুল হক গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছে। অন্যদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!