আগামিকাল পবিত্র ঈদুল আযহা

আগামিকাল পবিত্র ঈদুল আযহা

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

আগামীকাল সোমবার (১২ আগষ্ট) মুসলিম সম্প্রাদায়ের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানীর ঈদ। কোরবানীর শব্দমূল ‘কুব’ শব্দের অর্থ নৈকট্য। আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যা কিছু উৎসর্গ করা হয় সেটাই কোরবানী। মহান আল্লাহ বলেন, আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানীর এক রীতি পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি। যেন তারা ওসব পশুর উপর আল্লাহর নাম নিতে পারে যে সব আল্লাহ তাদের দান করেছেন। (সূরা হজ-৩৪)।

এই আয়াত দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য কোরবানী করা ফরজ। শুধু পশু কোরবানী নয়, পশুত্ব কোরবানীও কোরবানীর অন্যতম লক্ষ্য। পশুর রক্ত প্রবাহিত করার সাথে আমাদের ভিতরের পাশবিকতাকে কোরবানী করতে হবে। পশু কোরবানীর মাধ্যমে ঈমানের সাক্ষ্য প্রদান এবং পশুত্ব কোরবানীর মাধ্যমে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়াই কোরবানীর দাবি।

ঈদ মানে খুশি-ঈদ মানে আনন্দ। সকল মতভেদ ভুলে গিয়ে ধনী-গরীব কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদের জামাতে শরীক হয়। এ যেন একে অপরের প্রতি অনুরাগ সংবেদনশীল ও ভ্রাতৃত্বের অনুপম দৃশ্য। পবিত্র ঈদের দিনে রাজনৈতিক মতভেদ, পুরনো দিনের সকল গ্লানি মুছে ফেলে সবাই এক কাতারে এসে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তাই ঈদের এই অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি যাতে যুগ যুগ ধরে অব্যাহত থাকে। তার জন্যে ঈদের নামাজের পর ঈদগাঁহ মাঠ ও মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া করা হয়।

মুসলিম সম্প্রাদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য্যের মধ্যদিয়ে উদযাপন করার জন্য জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার পৌরসভা ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসাবে জেলার বৃহত্তম ঈদ জামাত শহরের স্টোডিয়াম সংলগ্ন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। এ নামাজ অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়। যদি আবহাওয়া প্রতিকূল বা বৃষ্টির আশংকা থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ওইখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি হাফেজ মাওলানা সোলাইমান কাসেমী প্রধান ঈদ জামাতের ঈমামতি ও বয়ান পেশ করবেন।

কক্সবাজার পৌরসভা ঈদ জামায়াতের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। শহরের প্রধান ঈদ জামায়াত ছাড়াও বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, বড় বাজার জামে মসজিদ, বদরমোকাম জামে মসজিদ, বাহারছড়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও নতুন বাহারছড়া জামে মসজিদ ও পাহাড়তলী রহমানিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামায়াত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঈদের দিন সকালে সকল সরকারী বেসরকারী ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোকসজ্জা, হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশু ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নত খাবার পরিবেশন, জেলা পরিষদের সামনে, এসপি অফিসের সামনে রাস্তা, শহরের বিশেষ বিশেষ স্থানে বাংলা-আরবীতে ঈদ মোবারক খচিত পতাকা ও ব্যানার টাঙ্গানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পর্যটন শহরে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কোরবানীর পশু বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজার পৌরসভাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মনিটরিং করার জন্য পৌরসভায় একটি কন্ট্রোল রুম বসানো এবং পর্যাপ্ত জনবল সার্বক্ষনিক প্রস্তুতসহ কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রচারের সিন্ধান্ত গৃহিত হয়। এছাড়াও সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের জন্য পৌরসভাকে নির্দেশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে স্ব-উদ্যোগে গর্ত করে পশুর বর্জ্য পুতে ফেলার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের গৃহীত সিন্ধান্তের মধ্যে আরও রয়েছে প্রধান ঈদ জামাতের সময়সূচী প্রচার করবে জেলা তথ্য অফিস ও কক্সবাজার পৌরসভা। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঈদ জামাতের পূর্বে কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দানে ধুলোবালি দূর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কোরবানীর ইতিহাস
হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা পালিত হয়। ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহায় ঠিক আগের দিনে চাঁদ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই। ১০ দিন আগেই ঠিক হয়ে যায় ঈদের দিনক্ষণ। সে অনুসারে পশু কেনা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়াসহ ঈদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে থাকেন সবাই। ঈদুল আজহা আমাদের দেশের মানুষের কাছে ‘কোরবানির ঈদ’ নামেই পরিচিত।

কোরবানির ইতিহাস সুপ্রাচীন। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করেই সারাবিশ্বের মুসলমানরা ১০ জিলহজ কোরবানি দিয়ে থাকেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানির জন্য মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পেয়েছিলেন। পরপর দু’বার তিনি পশু কোরবানি করেন। তৃতীয়বার একই নির্দেশ পেয়ে তিনি অনুধাবন করেন, পুত্র ইসমাইলের চেয়ে প্রিয় তাঁর কেউ নেই। আল্লাহপাক তাঁকেই কোরবানি করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর নির্দেশ জানালেন। শিশু ইসমাইল (আ.) নির্ভয় চিত্তে সম্মতি দিয়ে পিতাকে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালন করতে বলেন। কোরবানি করতে উদ্যত হজরত ইব্রাহিম (আ.) পুত্রস্নেহে যেন হৃদয় দুর্বল না হয়ে পড়েন, সে জন্য তিনি চোখ বেঁধে নিয়ে পুত্রের গলায় ছুরি চালিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলার অপার কুদরতে এ সময় হজরত ইসমাইলের (আ.) পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়।

ঈদের নামাজের জামাতের আগে খুতবায় হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইলের (আ.) কোরবানির এই কাহিনী তুলে ধরবেন ইমামরা। বিনম্র চিত্তে তাঁদের স্মরণ করবেন সারাবিশ্বের মুসলমানরা।

কোরবানি দেওয়া আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ওয়াজিব। ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হলেও পরের দুদিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সাধারণত উট, দুম্বা, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া এসব পশুই কোরবানি করার বিধান রয়েছে। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে সমস্ত লোভ লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, স্বার্থপরতা তথা ভেতরের পশুত্বকে ত্যাগের মধ্যদিয়ে আত্মশুদ্ধি লাভের ভেতরেই রয়েছে কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য।

এই ঈদে পশু কোরবানিই প্রধান ইবাদত। ঈদের জামাত আদায় করে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বেন কোরবানির জন্য। ঈদের জামাতে ব্যক্তি, সমাজ, দেশ, মুসলিম উম্মাহ এবং সারাবিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হবে।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!