শিবিরে ইয়াবা ও মানবপাচার বন্ধে রোহিঙ্গা নেতারা তৎপর

শিবিরে ইয়াবা ও মানবপাচার বন্ধে রোহিঙ্গা নেতারা তৎপর

নুরুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ইয়াবা ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ বন্ধে তৎপর হয়ে উঠেছেন রোহিঙ্গা নেতারা। রোহিঙ্গা শিবিরে নানা অপরাধ অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় শিবিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রোহিঙ্গা নেতারা স্বোচ্ছার হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুলাই) দুপুরে টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ইয়াবা ও মানব পাচারসহ অপরাধ বন্ধে এক সভার আয়োজন করা হয়। শিবিরের নেতাদের স্ব-উদ্যোগে ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে এই সভা অনুুুুষ্টিত হয়।

এতে উপস্থিত সকল রোহিঙ্গাদের ইয়াবা ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড রোধে শিবিরে তৎপর থাকতে বলেন টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের ডেভেলপমেন্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. আলম।

সভা শেষে একইদিন বিকেলে টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবির ডেভেলপমেন্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. আলমের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা নেতারা শিবিরের ইয়াবা মজুদের খবরে বি-বল্কের ছালেহ আহমদ, মো. সেলিম, খালেদা ও জোহুরার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এসময় পাচারের জন্য প্যাকেটকালে ইয়াবাসহ এক নারীকে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয় বলেও জানান রোহিঙ্গা নেতারা।

লেদা রোহিঙ্গা শিবির ডেভেলপমেন্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. আলম বলেন, শিবিরে অপরাধ কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ায় রোহিঙ্গা নেতাদের নিয়ে সভা করা হয়েছে। শিবিরে ইয়াবা ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ বন্ধে আমরা সবাই এক সঙ্গে কাজ করছি। তারই সুত্র ধরে শনিবার বিকেলে রোহিঙ্গা শিবিরের বি-বল্কে ইয়াবা পাচারের খবরে ইয়াবাসহ ধরে এক নারীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তার কাছে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ছিল।

এতো বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের জায়গায় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে চেয়ারম্যান মো. আলম বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জায়গা দিয়ে কি অপরাধ করেছে? যদি তা নাহয় গুটিকয়েক রোহিঙ্গা অপরাধীদের জন্য গোটা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বদনামের ভাগ নিবেন না।

তিনি বলেন, এখন থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে কাউকে অপরাধ কর্মকান্ড করতে দেয়া হবে না। ইয়াবা আসক্তি রোধে, বিশেষ করে পরিবারের লোকজনকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী এদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জীবনযাপন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধ প্রবণতা বন্ধে রাত ৮টার পর লোকজন শিবিরে ঘুরাফেরা করতে পারবে না। তার শিবিরের ৬টি ব্লকে ৩ হাজার পরিবারের অন্তত ২২ হাজার লোকজনের বসতি। তাদের জন্য অন্তত ৬০ জন প্রহরী রয়েছে। তাদের মধ্যে বিশেষ জরুরী ভিত্তিতে ৩০ জন প্রহরী দায়িত্ব পালন করেন।