রাতের আঁধারে ঘরে ডুকে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ, রক্ষা করতে গিয়ে বিধবাও গণধর্ষিত

১০ দিন হোটেলে আটকে রেখে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, পুলিশের কব্জায় ধর্ষণকারি যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়ায় বখাটের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী (১২) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ওই সময় সেই স্কুলছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে এক বিধবা নারীও (৩৬) গণধর্ষণের শিকার হন।

বুধবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হারবাং ইছাছড়ি হায়দারঘোনা এলাকার এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিচারের আশ্বাস দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ায় বিষয়টি এতদিন গোপন ছিল।

বুধবার রাতে হারবাং ইউনিয়নে স্কুলছাত্রীসহ দুই নারী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি শনিবার (২০ জুলাই) সকালে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তৎপর হয় পুলিশ। পরে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান শুরু করেছে।

এদিকে গণধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীকে বৃহস্পতিবার সকালে তার স্বজনরা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রেফার করেন। বর্তমানে স্কুলছাত্রটি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অপরদিকে বখাটের হাতে ৬ষ্ট শ্রেণীতে পড়ুয়া স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় আজিজনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছ্। মানববন্ধনে দুই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অংশ নেন। এসময় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে বখাটেদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানায়।

গণধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রীর ভাই বলেন, চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হারবাং ইছাছড়ি হায়দারঘোনা এলাকার পাশাপাশি দুইটি বাড়ি ছাড়া আর কোন বাড়ি নেই। তৎমধ্যে একটি বাড়িতে বৃদ্ধ মা-বাবা ভাইবোনসহ আমরা থাকি এবং অপর বাড়িতে বিধবা নারী (৩৬) তার সন্তান নিয়ে থাকেন। গত ১৭ জুলাই পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা ওই বিধবা নারীর সন্তান অন্যত্র বেড়াতে যাওয়ায় তিনি একা হয়ে পড়েন। পরে রাতের বেলায় আমার বাবা-মাকে বুঝিয়ে তার সাথে থাকার জন্য আমার স্কুল পড়ুয়া ছোটবোনকে নিয়ে যান। ওই সময় বাড়িতে আমার বৃদ্ধ বাবা-মা ছাড়া আর কেউ ছিল না।

তার দাবি, ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় ছাবের আহমদের ছেলে মো আসিফের নেতৃত্তে ৫-৬ জন স্থানীয় বখাটে আমাদের বাড়িতে ঢুকে আমার স্কুল পড়ুয়া ছোট বোনকে খুঁজতে থাকে। এসময় বখাটেরা আমার ছোট বোনের সন্ধান দেয়ার জন্য বৃদ্ধ বাবা-মাকে মারধর শুরু করলে তাদের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা বিধবা নারীর ঘুম ভেঙ্গে যায়। পরে তিনি দরজা খুলে আমাদের বাড়ির দিকে আসতে চাইলে তিনজন বখাটে ওই বাড়িতে ঢুকে আমার ছোট বোনকে তুলে পার্শ্ববর্তী একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে বখাটেরা আমার ছোট বোনকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। এসময় ওই নারী তাদের বাধা দিলে অপর বখাটেরা তাকেও গণধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

ওই স্কুল ছাত্রীর ভাই আরও জানান, ঘটনার পরদিন সকালে বিচারের আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালান।

বুধবার রাতে হারবাং ইউনিয়নে স্কুলছাত্রীসহ দুই নারী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি শনিবার (২০ জুলাই) সকালে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পিছু হটেন ইউপি চেয়ারম্যান।

তবে স্থানীয় হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বখাটেরা স্কুলছাত্রীসহ দুই নারী গণধর্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি জানান, হারবাংয়ে গণধর্ষণের বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ শনিবার বিকাল থেকে অভিযান চালালেও বখাটে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম চৌধূরী সাংবাদিকদের বলেন, হারবাংয়ে স্কুলছাত্রীসহ দুই নারী গণধর্ষণের ঘটনায় থানায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

বখাটেদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!