পাহাড়কাটার ছবি তোলায় সার্ভেয়ারকে মারধর, নেতৃত্বে ভূট্টো চেয়ারম্যানের লোকজন!

পাহাড়কাটার ছবি তোলায় সার্ভেয়ারকে মারধর, নেতৃত্বে ভূট্টো চেয়ারম্যানের লোকজন!

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু
কক্সবাজার ভিশন ডকটম

কক্সবাজারের কাছের উপজেলা রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে পাহাড়কাটার স্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে ‘পাহাড়খেকো’দের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শহীদুল হাসান। ওই সময় তিনি জখম হয়ে আহত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে বলীপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় থানায় মামলার এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

হামলার শিকার সার্ভেয়ার শহীদুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, দক্ষিণ মিঠাছড়ির বলীপাড়ায় পাহাড় কাটার খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান তিনি। পরিদর্শনে তিনি সরাসরি পাহাড়কাটার দৃশ্য দেখতে পান। এসময় তিনি পাহাড় না কাটতে পাহাড় কর্তনকারীদের নিষেধ করেন এবং একই সাথে পাহাড় কাটার ছবি তুলেন।

তিনি বলেন, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পাহাড়কর্তনকারীরা তার উপর হামলে পড়ে। রক্ষা পেতে তিনি দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তাকে পাকড়াও করে ধরে লাঠি দিয়ে নির্দয়ভাবে পেটায় ওই পাহাড় কর্তনকারীরা। এক পর্যায়ে তাকে ধারালো দা দিয়ে কোপাতে উদ্যত হন হামলকারীরা।

তবে ছবি উঠানো মোবাইলটি পাহাড় কর্তনকারীদের দিয়ে দিলে প্রাণে রক্ষা পান তিনি।

তিনি জানান, দক্ষিণ মিঠাছড়ির পানেরছড়া বলিপাড়ার মোঃ আলমের ছেলে মোঃ শহীদুল্লাহ, পানেরছড়া পূর্বকূল পাড়ার আবদুল গফুরের ছেলে ফরিদ আলম, সিকদার পাড়ার মৃত আবু বক্করে ছেলে সরওয়ার আলম (চেয়ারম্যান ভুট্টোর ছোট ভাই) ও নূরুল আজিম (চেয়ারম্যান ভুট্টোর ছোট ভাই), হারুন সওদাগরের ছেলে মুফিজুর রহমান (চেয়ারম্যান ভুট্টোর চাচাতো ভাই), পূর্ব পানের ছড়ার নূর আহামদের ছেলে জসিম উদ্দীন, মোঃ হোছেনের ছেলে জসিম উদ্দীন, পশ্চিম পানেরছড়ার নবী হোছেনের ছেলে নাছির উদ্দীন, আবদুস সালামের ছেলে মোঃ মিজান এবং বলীপাড়ার মৃত আবদুল মজিদের ছেলে মোঃ আলমসহ ১২-১৫ জনের একদল পাহাড়কর্তনকারী তার উপর (সার্ভেয়ার শহীদুল আলম) উপর হামলা চালায়।

অভিযোগ মতে, এসব পাহাড় কর্তনকারীরা সবাই দক্ষিণ মিঠাছড়ির চেয়ারম্যান ইউনুছ ভুটোর ঘনিষ্ট লোক। তারা দীর্ঘদিন ধরে পুরো দক্ষিণ মিঠাছড়িজুড়ে ভয়ংকরভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করছে। চেয়ারম্যান ভুট্টো তাদের আশ্রয় দেযন এবং তিনি এভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং পাহাড়কাটা জায়গাগুলো জবর দখল করছেন।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন, ‘পাহাড়খেকোরা কত বড় বেপরোয়া হলে একজন সরকারি কর্মকর্তার উপর হামলা করতে পারে তা সহজে অনুমেয়। তবে সেই দিন শেষ। এখন থেকে একটি পাহাড়ও কাটতে দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, যারা সার্ভেয়ার শহীদুলের উপর হামলা করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবেই।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!