কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যুক্ত হলো বিশ্বমানের জরুরি বিভাগ, আজ আনুষ্টানিক উদ্বোধন

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যুক্ত হলো বিশ^মানের জরুরি বিভাগ, আজ আনুষ্টানিক উদ্বোধন

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মান নিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আধুনিক জরুরী বিভাগ। আজ (২০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এই বিভাগের আনুষ্টানিক উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিশ্বমানের এই জরুরী বিভাগে যুক্ত হয়েছে রোগ নির্ণয়ে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা কক্ষে ৪টি করে সিট। এই জরুরি বিভাগে থাকবেন ৭ জন চিকিৎসক, ১২ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স ও ১০ জন নিরাপত্তাকর্মী।

তবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নতুনভাবে যেহেতু উন্নত বিশ্বের আদলে এই বিভাগ পরিচালিত হবে তাই জীবন বাঁচানো ও গুরুত্ব প্রদানসহ জরুরি বিভাগের আগত রোগীদের বিশেষ বাছাই প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা দেয়া হবে। এটিকে ‘ট্রায়াজ সিস্টেম’ বলা হচ্ছে। যেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স ও চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবেন।

যদিও এই বিভাগটির সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধানে থাকবে এনজিও সংস্থা আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (্আইসিআরসি)।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ও জরুরী বিভাগের প্রধান ডা. শাহীন আব্দুর রহমান চৌধুরী জানান, নতুন করে যে বিশ^মানের জরুরী বিভাগ হচ্ছে সেখানে ‘ট্রায়াজ সিস্টেম’ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হবে। তিন ভাগে বিভক্ত করে চিকিৎসা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, মূমূর্ষু রোগীদের রাখা হবে রেড জোনে, প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন এমন রোগীদের রাখা হবে গ্রীন জোনে আর এদের চেয়ে খারাপ রোগীদের রাখা হবে ইয়েলো জোনে অর্থাৎ অবজারভেশনে। সেখানে উন্নতি না হলে ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হবে।

প্রশ্নের জবাবে ডা. শাহীন বলেন, এক সাথে ১০ জনের অধিক রোগী আসলেও তাদের ট্রায়াজ সিস্টেমে চিকিৎসা দেয়া হবে।

নতুন নির্মিত এতো বড় জরুরী বিভাগে এক সাথে কতজন ডাক্তার দায়িত্বরত থাকবেন এমন প্রশ্নে ডা. শাহীন বলেন, সকালের শিফটে ২ জন, দুপুরের শিফটে ২ জন আর রাতের শিফটে ২ জন করে ডাক্তার চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। এই জরুরী বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের ‘আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (্আইসিআরসি) সম্প্রতি উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

তবে আগে সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে অপারেশন সিস্টেম না থাকলেও এবারের বিশ^মানের জরুরী বিভাগে ছোট-খাটো অস্ত্রোপচারও (মাইনর অপারেশন) করা হবে বলে জানিয়েছেন আরএমও ডা. শাহীন।

এছাড়াও রোগীদের জরুরি অপারেশনের জন্য রয়েছে আধুনিক ‘অপারেশন থিয়েটার’। আছে প্লাস্টার রুম। চিকিৎসকদের জন্য আলাদা কক্ষ, পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আলাদা কক্ষ রাখা হয়েছে। রোগিদের বিনোদনের জন্য টিভির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যুক্ত হলো বিশ^মানের জরুরি বিভাগ, আজ আনুষ্টানিক উদ্বোধন

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত জরুরী বিভাগের ইমার্জেন্সি মেডিকেল কর্মকর্তা (ইএমও) ডা. আশিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বমানের এই জরুরি বিভাগ বাংলাদেশে প্রথম। আন্তর্জাতিক মানদ-ে পরিচালিত হবে বিধায় প্রথম দিকে সেবা গ্রহীতা তথা রোগীদের অভ্যস্ত করানোর জন্য কাউন্সিলিংয়ের পাশাপাশি গুণগত ও সঠিক জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু উন্নত বিশ্বের আদলে ও তত্ত্বাবধানে এই বিভাগ পরিচালিত হবে তাই জীবন বাঁচানো ও গুরুত্ব প্রদানসহ জরুরি বিভাগে আগত রোগীদের বিশেষ বাছাই প্রক্রিয়ার (ট্রায়াজ সিস্টেম) মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স, ডাক্তার জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবেন।’

ডা. আশিকুর রহমান আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত সংকটাপন্ন রোগী সবার আগে চিকিৎসা সেবা পাবেন- যাতে জীবন রক্ষা করা যায়, এরপর অন্যান্য রোগী পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। তাছাড়াও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ যথেষ্ট সতর্কতার সাথে প্রয়োগ করা হবে চিকিৎসকের পুর্ণ তত্বাবধানে।

তার মতে, দুর্ঘটনায় আহতদের পর্যাপ্ত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়।

তিনি জানান, জরুরি বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত কর্মশালা অব্যাহত থাকবে।

তিনি মনে করেন. কক্সবাজারের জনগণের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে এই বিভাগ তথা সদর হাসপাতালকে অনন্য উৎকর্ষ বা ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মুল উদ্দেশ্য।

জরুরী বিভাগের এই জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) জানান, লোকবল সংকটের কারণে নতুন ধারণার সাথে লোকজনকে সচেতন করা ও নিয়ম মেনে সেবা গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করার মনমানসিকতা তৈরি করাই হবে সামনের দিনগুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তার মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এই জরুরি বিভাগ।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, এখানে জরুরী রোগীদের রোগ নির্ণয়ে অনেক উন্নত মানের সরঞ্জাম আছে। আশা করছি, কক্সবাজারের মানুষ অনেক ভালো চিকিৎসা পাবেন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু নতুন ভাবে বিশ^মানের এই জরুরী বিভাগ হচ্ছে সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সেবায় কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের নতুন ধারণার সাথে লোকজনকে সচেতন করা ও নিয়ম মেনে সেবা গ্রহণের আশা করছি।’

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!