হজ্ব করতে গিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন সাংবাদিক আনোয়ারের বাবা, জন্নাতুল বকীতে দাফন

হজ্ব করতে গিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন সাংবাদিক আনোয়ারের বাবা, জন্নাতুল বকীতে দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈদগাঁও
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

পবিত্র হজ্বব্রত পালন করতে গিয়ে পবিত্র শহর মদিনাতে ইন্তেকাল করেছেন কক্সবাজার সদরের ঈদগাহর সাংবাদিক আনোয়ার হোছাইনের বাবা শফিউজ্জামান (৬৭)। তিনি বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টার দিকে মদিনার মসজিদে নব্বীতে মুসলমানদের সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহম্মদের (স.) রওজা মোবারক জিয়ারতকালে হঠাৎ ঢলে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত মৃত ঘোষণা করেন।

একই দিন বাংলাদেশ সময় পৌণে ১১টা ও সৌদি আরব সময় মাগরিবের নামাজের পর মসজিদে নব্বীতে নামাজে জানাযা শেষে শফিউজ্জামানকে জন্নাতুল বকী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

হজ্বব্রত পালনে সৌদি আরবে অবস্থানকারি শফিউজ্জামানের ছোট ভাই মাওলানা মনিরুজ্জামান খান নিজেই ভাইয়ের দাফন কাজ শেষ করেন।

মরহুমের ছেলে সাংবাদিক আনোয়ার হোসাইন জানিয়েছেন, তার বাবা শফিউজ্জামান হজ্বব্রত পালনে সৌদি আরব যাত্রাকালে অছিয়ত করে গিয়েছিলেন, হজ্বব্রত পালনকালে যদি সেখানে তার মৃত্যু হয় তাকে যেন দেশে না এনে সেখানেই দাফন করা হয়। তার অছিয়ত মতেই পবিত্র নগরী মদিনার জান্নাতুল বকী কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

সাংবাদিক আনোয়ার জানান, মরহুমের বড় ছেলে অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী নুর হোসাইন পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বাবা শফিউজ্জামানকে মদিনায় দাফনের জন্য ছোট ভাই মাওলানা মনিরুজ্জামান খানকে দায়িত্ব অর্পন করেন।

এদিকে হ্জ্ব যাত্রী শফিউজ্জামানের মৃত্যুকালে তার সাথে ছিলেন আপন ছোট ভাই ও ফুলছড়ি ইসলামিয়া আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মনিরুজ্জামান খান।

প্রসঙ্গত, তারা দুই ভাই হজ্বব্রত পালনের জন্য গত ১৭ জুলাই চট্টগ্রাম শাহ আমানত (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত ১১টার ফ্লাইটে সৌদি আরবের মদীনায় উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার ভোর রাতে তারা মদিনায় পৌছান।

সূত্র মতে, মদীনায় পৌঁছে একটু বিশ্রাম নিয়ে বেলা ১২টার দিকে মদীনায় মসজিদে নব্বীতে হজরত মুহম্মদের (স.) রওজা মুবারক জেয়ারতকালে শফিউজ্জামান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাড় ক্ষয়জনিত রোগে আক্রান্ত হলেও নিয়মিত চিকিৎসার কারণে সুস্থ হয়ে উঠেন।

সঙ্গে থাকা তার ছোট ভাই জানান,বড় ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় তার সাথে রাসুলের (স.) রওজা জেয়ারতকালে চোখের সামনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তিনি বলেন, সে স্মৃতি কখনো ভুলা যাবে না।

মরহুম শফিউজ্জমান দুই ছেলে ও চার মেয়ে সন্তানের বাবা। বড় ছেলে নুর হোছাইন অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী ও ছোট ছেলে আনোয়ার হোছাইন ঈদগাঁহর সিনিয়র সাংবাদিক ও শিক্ষক। মেয়েদের বিভিন্ন সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে দিয়েছেন।

তিনি খুটাখালী ইউনিয়নের পূর্ব নয়াপাড়া গ্রামের মৃত মোঃ হোসেনের বড় ছেলে। চার বছর পূর্ব থেকে তিনি কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন অফিসে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন। আড়াই বছর পূর্বে আকস্মিক তার সহধর্মিনী তৈয়বা বেগমও ইন্তেকাল করেন।