চকরিয়া-পেকুয়ায় ঢলের পানিতে বিধ্বস্ত ৬০ হাজার বসতঘর

চকরিয়া-পেকুয়ায় ঢলের পানিতে বিধ্বস্ত ৬০ হাজার বসতঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়া ও উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়া। দুই উপজেলায় বন্যায় অন্তত ৬০ হাজার বসতঘর সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। প্রায় তিনশ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এছাড়াও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ৫৬ কোটি টাকার মাছ। নষ্ট হয়ে গেছে সবজি ক্ষেত। শত শত একর জমির লবণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন সুত্র মতে, ১০ দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাাহড়ি ঢলে চকরিয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বন্যায় ৪০ হাজার ১৬০টি বসতঘর নষ্ট, ১৮টি ইউনিয়নে ১৯৫.৫ কিলোমিটার সড়ক ভেঙ্গে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে এক কোটি ৩৯ লাখ টাকার সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে।

মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চিংড়ি ঘেরসহ ব্যক্তিখাতে ৩ হাজার পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে ৫৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়াও উপকূলীয় এলাকায় ৮৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। ফলে সাগরের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বিএমচরের একটি মসজিদ মাতামুহুরী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবউল করিম বলেন, বন্যায় পেকুয়ার ৭ ইউনিয়নে ২০ হাজার বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। শতাধিক কিলোমিটার সড়ক কমবেশী ভেঙ্গেছে। ভেঙ্গেছে বেড়িবাঁধও।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড় ঢলের কারণে চকরিয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আমরা প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির একটি চিত্র জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

তিনি বলেন, বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষতির সঠিক একটি প্রতিবেদন তৈরী করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করণীয় নিয়ে একটি প্রতিবেদনও পাঠিয়েছি। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও জলোচ্ছাস প্রবণ এলাকা হওয়ায় চকরিয়ায় প্রতিটি সড়ক ও বাঁধ টেকসই নির্মাণ করতে হবে। ঢলের তোড়ে মাতামুহুরীর ভাঙ্গনে একপাশের এপ্রোচ ভাঙ্গনে ঝুঁকিতে রয়েছে বেতুয়া বাজার ব্রীজ। বরইতলী শান্তিবাজার থেকে লামার ইয়াংছা পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার সড়ক টেন্ডার হলেও মেরামত না হওয়ায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে।

ইউএনও শিবলী নোমান বলেন, অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই পরিবহণ চলাচলের কারণে অতিঝুঁকির মুখে রয়েছে মাতামুহুরী সেতু। এই সেতুটির পুরো আস্তরণ তুলে সম্পুর্ণ ঢালাই করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে সেতুর দুই পাশে দুটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

তার মতে, জরুরী ভিত্তিতে সেতুটি সংস্কার না হলে পর্যটন জেলা কক্সবাজারে চলমান ৩ লাখ কোটি টাকার প্রকল্প কাজ সম্পাদন ব্যাহত হবে।

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া-পেকুয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে বন্যা হলেও যাতে ক্ষতির পরিমাণ কম হয় এবং অতিপ্লাবন থেকে জনগণ রক্ষা পায় সেভাবেই রাস্তা ও বাঁধ টেকসই নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, মাতামুহুরী খাল খননসহ সড়ক বাঁধ মেরামত করতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আমি নিজেই দপ্তরভিত্তিক কর্মকর্তাদের নিয়ে যোগাযোগ করব।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!