যশোর ও চাঁদপুরের কারবারি মরলো টেকনাফে

এক রাতেই নারীসহ ৩ মাদক কারবারি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবার মৃত্যুর খবর শুনে পিএসসি পরীক্ষা দিতে গেলো সৈয়দ নূর!

নুরুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সাথে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও ‘গোলাগুলি’র ঘটনায় এক নারীসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বিজিবি-পুলিশের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) গভীর রাতে টেকনাফের জাদিমুড়া সংলগ্ন শিকল পাড়ায় বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনায় দুইজন এবং বুধবার (১৭ জুলাই) ভোরে একই এলাকায় দুই মাদক কারবারি নিজেদের মধ্যে ইয়াবা লেনদেনের ঘটনায় ‘গোলাগুলি’তে এক নারী মারা গেছেন।

নিহতরা হলেন যশোরের বসুন্দিয়ার জব্বার আলীর ছেলে জাবেদ মিয়া (৩৪) ও চাঁদপুরের চরমুকন্দি গ্রামের রেজোয়ান সওদাগরের ছেলে আসমাউল সওদাগর (৩৫) এবং টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া এলাকার ছমি উদ্দিনের স্ত্রী হামিদা বেগম (৩২)।

টেকনাফস্থ ২ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে টেকনাফের জাদিমুড়া সংলগ্ন শিকল পাড়া এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে- এমন গোপন সংবাদে বিজিবির একটি দল জাদিমুড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় নাফনদীর কিনারা থেকে পাচারকারিরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। পরে তারা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে জাবেদ ও আসমাউলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

বিজিবির দাবি, ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার ইয়াবা, ১টি দেশীয় এলজি ও তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, বুধবার ভোর রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউপিস্থ জাদিমুড়া বাজারের পূর্বদিকে নাফ নদী সংলগ্ন খালি জায়গায় ইয়াবা লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই মাদক গ্রুপের মধ্যে পক্ষের গোলাগুলির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছলে পাচারকারিরা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে হামিদা নামে এক নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসময় ঘটনাস্থল থেকে ২টি এলজি, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১২ রাউন্ড খালি খোসা, পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

নিহত নারী মাদক ব্যবসায়ী ছিল উল্লেখ করে ওসি বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শোভন দাস বলেন, বিজিবি-পুলিশ এক নারীসহ গুলিবিদ্ধ তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। তার মধ্যে গুলিবিদ্ধ এক নারী মারা যান। বাকি দুইজনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠালে তাদের মৃত্যু ঘটে সেখানে। এছাড়াও আহত বিজিবি সদস্যদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!