চকরিয়া-পেকুয়ায় বন্যায় শতাধিক গ্রাম পানির নিচে, ব্রীজ-কালভার্ট ও বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন

চকরিয়া-পেকুয়ায় বন্যায় শতাধিক গ্রাম পানির নিচে, ব্রীজ-কালভার্ট ও বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া-পেকুয়া বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে বেড়িবাঁধসহ ব্রীজ-কালভার্ট। মাতামুহুরী নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে বেতুয়াবাজার ব্রীজের এপ্রোস সড়কের মাটি সরে গেছে। এ কারণে ব্রীজটি হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও দৃুই উপজেলার বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। ফলে চকরিয়া-পেকুয়ার উপকুলীয় ইউনিয়নে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৩ লক্ষাধিক বানবাসি মানুষ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদী বেয়ে পার্বত্য এলাকা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত তিনদিনে উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বেতুয়াবাজারের পূর্ব পাশে ব্রীজের নিচে এপ্রোস সড়কের মাটি সরে গেছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে ওই ব্রীজটি। এছাড়া বিএমচরের কুইরল্যারকুমের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ঢলের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। ফলে উপকূলীয় এলাকার নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানি ডুকে পড়ছে।

অপরদিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ও সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। পেকুয়ার ইউএনও মাহাবুবউল করিম স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বেড়িবাঁধটি সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন।

চকরিয়ার পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন এবং পেকুয়ার ৭টির মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ১টি পৌরসভা ও ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে শতাধিক গ্রাম পানির নিচে এখনো তলিয়ে রয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে ঢলের পানিতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বানবাসি মানুষ।

বানবাসি ওইসব পরিবারের লোকজন বলেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বন্যার পানি কমেনি। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা যা ত্রাণ দিচ্ছেন তা পর্যাপ্ত নয়। বানবাসি মানুষ আরো ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।

চকরিয়া-পেকুয়ায় বন্যায় শতাধিক গ্রাম পানির নিচে, ব্রীজ-কালভার্ট ও বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন

জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে চকরিয়া-পেকুয়া, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও আলীকদমে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এই বৃষ্টির পানি রাতের দিকে মাতামুহুরী নদী দিয়ে নেমে আসে ভাটির দিকে। এসময় নদীর দু’কূল উপচিয়ে লামা-আলীকদম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, সাহারবিল, চিরিংগা, কৈয়ারবিল, কোনাখালী, বিএমচর, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, ফাঁসিয়াখালী ও পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা এবং পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, শিলখালীসহ বেশ ক’টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়।

কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান ও সুরাজপুর-মানিকপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বন্যার পানি কমেনি। শত শত পরিবারে রান্নার কাজ বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষের মাঝে খিচুড়ি রান্না করে ও শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সকালে বেতুয়াবাজার ব্রীজ ও কুইরল্যারকুমের বেড়িবাঁধ সরেজমিন দেখে এসেছি। তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলেছি।

তিনি বলেন, বন্যার পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত দুর্গতদের শুকনো খাবারের পাশাপাশি চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়া হবে। বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে করণীয় ঠিক করা হবে।

এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুব-উল করিম বলেন, বৃষ্টি না কমায় বন্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, মেহেরনামার ঢলের পানিতে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধটি সংস্কার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ মেট্রিক টন চাল ও ৫’শ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব জিনিসপত্র বন্যাকবলিতদের বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, অতিবর্ষণের ফলে বন্যার পানি নামতে পারেনি। পানিবন্দি রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। বন্যার্তদের বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪০ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ইউএনও বলেন, কোনাখালীর কুইরল্যারকুম ভেঙ্গে যাওয়ায় উপকুলীয় এলাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ ভাঙ্গার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।