মহেশখালীর তরুণী গণধর্ষণ: দুই মেম্বারসহ তিনজনের ৫ দিনের রিমান্ড চাইলো পুলিশ

মহেশখালীর তরুণী গণধর্ষণ: দুই মেম্বারসহ তিনজনের ৫ দিনের রিমান্ড চাইলো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলার চালিয়াতলিতে চাঞ্চল্যকর তরুণী ধর্ষণ ঘটনায় কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের দুই মেম্বারসহ তিনজনের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মহেশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আবেদন করা হয়। তার আগে তিনজনকে আদালত হাজতে পাঠানো হয়।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি প্রভাষ জানান, চাঞ্চল্যকর তরুণী ধর্ষণ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার লিয়াকত আলী এবং একই ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার খতিজা বেগমকেও আসামী করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ায় মামলা রুজুর আগেই শুক্রবার তারা দুইজনকে আটক করা হয়েছিল। বাদির অভিযোগের ভিত্তিতে তারা এজাহারনামীয় আসামী হয়েছেন।

তিনি জানান, একই সাথে গণধর্ষণে অভিযুক্ত মনু মিয়া নামে এক যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনজনকে শনিবার সকাল ১১টায় মহেশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয় এবং তাদের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শুনানি হয়নি।

পুলিশ সূত্র জানান, চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় মামলটি দায়ের করেন।

ওসির মতে, ধর্ষিতা নিজে বাদি হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭/৭ জনের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মামলায় স্থানীয় মেম্বার লিয়াকত আলী ও খতিজা বেগমকে আসামী করা হয়েছে। মামলা রুজুর আগেই তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নলবিলা মাঝের পাড়ার আবদুর রশিদের ছেলে গণধর্ষণ ঘটনায় জড়িত মনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ওই এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছে।

বাদীর অভিযোগ, গত ৭ জুলাই রাতে তিনি (ওই তরুণী) চট্টগ্রামের কর্মস্থল থেকে নানার বাড়ি মাতারবাড়ি আসার পথে তাকে পাহাড়ে তুলে ধর্ষণ করে নলবিলার আমির সালাম, এনিয়া, সিএনজি চালক আদালত খাঁ ও ওসমান গণিসহ ১৪ জন। কিন্তু এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে মিশন নিয়ে নামে মাতারবাড়ির সড়কের সিএনজি লাইনম্যান রশিদ ও স্থানীয় মেম্বার লিয়াকত আলীসহ একটি চক্র।

তবে শুক্রবার ঘটনাটির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিকালে মাতারবাড়ি থেকে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে।