সেই তরুণী গণধর্ষণ মামলায় আসামি হয়ে দুই মেম্বার গ্রেপ্তার

সেই তরুণী গণধর্ষণ মামলায় আসামি হয়ে দুই মেম্বার গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের অন্যতম দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলার চালিয়াতলিতে চাঞ্চল্যকর তরুণী ধর্ষণ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় কালারমারছড়া ইউনিয়নের দুই মেম্বারকেও আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন কালারমারছড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার লিয়াকত আলী এবং একই ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার খতিজা বেগম। তারা দুজনই এজাহারনামীয় আসামি হয়েছেন।

এই ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুই ইউপি মেম্বার অভিযুক্ত হয়েছেন। তাদের ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মহেশখালী থানা পুলিশ।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় মামলটি দায়ের করেন।

ওসি জানান, ধর্ষিতা নিজে বাদি হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭/৭ জনের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মামলায় স্থানীয় মেম্বার লিয়াকত আলী ও খতিজা বেগমকে আসামী করা হয়েছে।

তিনি জানান, মামলা রুজুর আগেই তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নলবিলা মাঝের পাড়ার আবদুর রশিদের ছেলে ধর্ষক মনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ওই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

তথ্য মতে, গত ৭ জুলাই রাতে ওই তরুণী চট্টগ্রামের কর্মস্থল থেকে নানার বাড়ি মাতারবাড়ি আসার পথে তাকে পাহাড়ে তুলে ধর্ষণ করে নলবিলার আমির সালাম, এনিয়া, সিএনজি চালক আদালত খাঁ ও ওসমান গণিসহ ১৪ জন। কিন্তু এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে মিশন নিয়ে নামে মাতারবাড়ির সড়কের সিএনজি লাইনম্যান রশিদ ও স্থানীয় মেম্বার লিয়াকত আলীসহ একটি চক্র। তবে শুক্রবার ঘটনাটির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিকালে মাতারবাড়ি থেকে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামীদের জেলহাজতে পাঠানো হচ্ছে এবং অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।