টেকনাফে পাহাড়ে বসবাসকারিদের নামাতে মাইকিং

টেকনাফে পাহাড় ধসের শংকায় এক লাখ রোহিঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের পাহাড় গুলোতে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারিদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসন মাইকিং শুরু করেছে।

জানা যায়,৭ জুলাই রোববার সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের পক্ষ থেকে টেকনাফ সদর, পৌরসভা, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়নে ঝুঁকিপুর্ণ ভাবে পাহাড়ী এলাকায় বসবাসকারিদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল হাসান বলেন, এখন বর্ষাকাল, তার উপর লাগাতার ভারি বর্ষণের কারণে
পাহাড় ধ্বস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমরা উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার জন্য মাইকিং করে নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি বলেন, তারপরও তারা যদি নিজের ইচ্ছায় সরে না আসে ঝুঁকিপুর্ণ বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

টেকনাফ বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আওতাধীন ৩৯ হাজার হেক্টর বনভূমিতে অবৈধভাবে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপুর্ণ ভাবে বসবাস করছে ২৫ হাজার।

এই এলাকাগুলো হচ্ছে টেকনাফ পৌরসভার ফকিরাঘোনা, নাইট্যংপাড়া, ধুমপেরাংঘোনা, বৈদ্যরঘোনা, নাজিরঘোনা, সদর ইউনিয়নের গিলাতলী, শিয়াইল্যারঘোনা, উরুমেরছড়া, কেরুনতলি, বরইতলী, হ্নীলা ইউনিয়নের রোজারঘোনা, জাদিমুরা, উলচামারী, লেচুয়াপ্রাং, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সাতঘরিয়াপাড়া, কম্বনিয়াপাড়া, মরিচ্ছ্যাঘোনা, আমতলি, লাতুরিখোলা, হরিখোলা, দৈঘ্যাকাটা, বাহারছড়ার নোয়াখালী, হাজমপাড়া, বাইন্ন্যাপাড়া ও আছারবনিয়া। এই সমস্ত এলাকার প্রায় ২৫টি পাহাড়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ, এই পাহাড় গুলোতে বিগত কয়েকবছর ধরে স্থানীয় হতদরিদ্র জনগোষ্টির পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা প্রাকৃতিক দৃশ্যঘেরা পাহাড়ী গাছপালা কেটে বিলীন করার পর অবৈধ ভাবে বসতি স্থাপন করেছে।

এব্যাপারে টেকনাফ বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, টেকনাফ উপজেলার পাহাড় গুলোতে যারা ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাস করছে তাদের কোন নিরাপত্তা নেই। তাই তাদের সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।