খোলা আকাশের নিচে অর্ধশত পরিবার

পূর্ণিমার জোয়ারে ভাঙছে দ্বীপ কুতুবদিয়া

পূর্ণিমার জোয়ারে ভাঙছে দ্বীপ কুতুবদিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুতুবদিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বর্ষা মৌসুমের পূর্ণিমা ও অমাবষ্যার জোয়ারে প্রতিনিয়ত ভাঙছে কক্সবাজার জেলার অন্যতম দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার উপকূল। দিন দিন সমুদ্রতলের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভাঙন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগরের করালগ্রাসের কাছে অসহায় পড়েছেন সমুদ্র পাড়ের মানুষগুলো। সাগরের ভাঙনে ঘর-বাড়ি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে কয়েকশত পরিবার।

কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়া ও বঙ্গোপসাগরে নি¤œচাপের ফলে সৃষ্ট সাগরের জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে দ্বীপের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল। ফলে দ্বীপের ১৫টির মতো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে ক্ষতি হয়েছে ফসলী মাঠ। অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বর্ষা মৌসুমের ধান চাষ নিয়েও।

শনিবার (৬ জুলাই) জোয়ারের পানিতে বেঁধিবাধ ভেঙে বিলীন হয়েছে বড়ঘোপ মুরালিয়া গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর। লোনা পানি প্রবেশের কারণে নষ্ঠ হয়েছে চাষিদের বীজতলা। এছাড়াও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে তাবেলচর, জেলেপাড়া, কাহার পাড়া, বায়ুবিদ্যুৎ এলাকা, আকবর বলী ঘাট, চর ধুুরংসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম।

পূর্ণিমার জোয়ারে ভাঙছে দ্বীপ কুতুবদিয়া

মুরালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছৈয়দ হোসেন জানান, জোয়ারের পানিয়ে তলিয়ে গেছে দক্ষিণ মুরালিয়া বেঁড়িবাধ এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়ি ও দোকান। পানিতে থৈ থৈ করছে পুরো গ্রাম। রাস্তা-ঘাটসহ ডুবে নষ্ট হয়েছে কৃষকদের বীজতলা, মুরগির খামারসহ মাছের ঘের ও পুকুর। এতে ক্ষতি হয়েছে কয়েক লক্ষাধিক টাকার।

এলাকাবাসী জানান, বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দ দেয়া প্রায় ৯২ কোটি টাকার বেঁড়িবাধের কাজ জরুরি ভিত্তিতে যথাসময়ে না করায় অসহায় মানুষগুলোকে বাপ-দাদার ভিটে-বাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হচ্ছে। তাঁরা বেঁড়িবাধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, স্থায়ী বেঁড়িবাধ নির্মাণের জন্য বর্তমান সরকার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বেঁড়িবাধ নির্মাণের কাজ চলছে।

পূর্ণিমার জোয়ারে ভাঙছে দ্বীপ কুতুবদিয়া

তিনি জানান, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ অথবা ব্লক দিয়ে মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।

এদিকে প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার রায়সহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকার্তারা।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!