স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুই ভূঁয়া কারাপরিদর্শক ১৩ দিন ধরে সী-ক্রাউন হোটেলে

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুই ভূঁয়া কারাপরিদর্শক ১৩ দিন ধরে সী-ক্রাউন হোটেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার আবাসিক হোটেল সী ক্রাউন থেকে নারীসহ দুই ভুঁয়া কারা কর্মকর্তা আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার গভীর রাতে কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এ অভিযান চালায়।

আটককৃতরা হলেন রিয়াদ বিন সেলিম ও শাহনাজ পারভীন মায়া। তারা স্বামী-স্ত্রী এবং চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

কলাতলীস্থ হোটেল সী ক্রাউন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দম্পত্তি পরিচয়ে রিয়াদ বিন সেলিম ও শাহনাজ পারভীন মায়া নামে দুইজন গত ২১ জুন হোটেলের ২১৭ নাম্বার কক্ষে উঠেন। হোটেলে অবস্থান, খাবার বাকিতে ভোগ করছিলেন তারা। পরে তাদের ২০৯ নাম্বার কক্ষে রুমে স্থানান্তর করা হয়।

হোটেল কর্তৃপক্ষের মতে, নিয়ম অনুযায়ী বোর্ডারদের কাছ থেকে রুম ভাড়া আর খাবারের বিল পরিশোধের জন্য তাগাদা দিলে তারা আজ দিবে কাল দিবে বলে কাল ক্ষেপন করেন।

হোটেল কর্তৃপক্ষ আরও জানান, ওই রুমে অবস্থানকারী বোর্ডাররা কোন কোন সময় নিজেদের কারা কর্মকর্তা, কখনো কখনো সিনিয়র কারা পরিদর্শক পরিচয় দেন। এই পরিচয়ে রুম ভাড়াসহ অন্যান্য বিল থেকে ৫০ ডিসকাউন্ট দেয়ার পরেও তারা বিল পরিশোধে গড়িমসি করেন। তাদের পরিচয় ও আচরণে সন্দেহ হলে বিষয়টি কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক বজলুর রশীদ আখন্দকে জানানো হয়। তিনি খবর পেয়ে বুধবার রাত ১২টার দিকে হোটেলে আসেন।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক বজলুর রশীদ আখন্দ সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার রাত ১২টার দিকে হোটেল সী-ক্রাউন কর্তৃপক্ষ আমাকে অবগত করেন যে, তাদের হোটেলে অবস্থানরত দুইজন বোর্ডার সিনিয়র কারা পরিদর্শক পরিচয়ে অনেক টাকা বাকী করেছেন। খাবার ও রুমের বিলও পরিশোধ করছেন না। এই খবর পেয়েই আমি তাৎক্ষণিক ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছি।

বজলুল রশীদ আখন্দ বলেন, পরবর্তীতে রিয়াদ বিন সেলিম ও শাহনাজ পারভীন মায়া নামের ওই বোর্ডারদের চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইনকে জানানো হলে তিনি কক্সবাজার সদর মডেল থানার অপারেশন অফিসার ইন্সপেক্টর সো. ইয়াছিনকে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পাঠান। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের থানায় নিয়ে যান।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার অপারেশন অফিসার ইন্সপেক্টর মো. ইয়াছিন বলেন, তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবী করে দুজনই সিনিয়র কারাপরিদর্শক হিসেবে ভূঁয়া পরিচয় দেন এবং ওই পরিচয়ে হোটেলে ১৩ দিন অবস্থান করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক।

ইন্সপেক্টর মো. ইয়াছিন বলেন, চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হলে কোন কাজ ছাড়াই হোটেল কক্ষে ১৩ দিন অবস্থান অস্বাভাবিক। এর পেছনে মাদকের কোন সংশ্লিষ্টতা আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আটককৃত রিয়াদ বিন সেলিমের বিরুদ্ধে আকবর শাহ থানায় ধর্ষণ ও অপহরণের মামলা রয়েছে।

এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!