ঈদ আনন্দ-উৎসব হলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

মিয়ানমারের নির্যাতত ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের উখিয়া-টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় ক্যাম্পে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করেছেন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। রোহিঙ্গা শিশু-কিশোররা কিছু সময়ে জন্য হলেও ভুলে গিয়েছিল মিয়ানমারের ভয়ানক সহিংসতার কথা।

তবে ২ বছর আগে নিজ মাতৃভূমি থেকে পালিয়ে আসা কোনো রোহিঙ্গা পরিবারই তাদের সে নির্যাতন ও বাস্তুভিটার কথা ভুলতে পারেনি। ঈদ আসায় আত্মীয়-স্বজন হারানো কিংবা তাদের থেকে দূরে থাকায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের হৃদয়ে ব্যাথা-বেদনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঈদের প্রয়োজনীয় কেনাকেটা ছাড়াই নিরানন্দে কেটেছে তাদের ঈদ। তবে অবুঝ শিশু-কিশোররা অনাবিল আনন্দে ঈদ উপভোগ করছে।

২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারে সৃষ্ট সহিংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে এসে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এবারসহ তারা ২ ঈদ-উল-ফিতর পালন করলো আশ্রিত এ রোহিঙ্গারা।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর নির্যাতনে প্রাণ হারানো আত্মীয়-স্বজনের স্মৃতি বয়েই রোহিঙ্গা মুসলিমরা ঈদ পালন করছেন। ত্রাণ হিসেবে পাওয়া চাহিদার তুলনায় কম ঈদ সামগ্রীসহ সেমাই, চিনি ও নতুন কাপড় ছাড়াই নিরানন্দ ঈদ উদযাপন করেছেন বেশিরভাগ রোহিঙ্গা।

তবে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের আত্মীয়-স্বজনদের যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, তারাও উৎসবমুখর ঈদ আনন্দে মেতে ওঠেছেন। শহরে যেতে না পারলেও উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় হাট-বাজার থেকে কেনাকাটা করেছেন অনেকেই।

আনন্দ-নিরানন্দ ঈদ উদযাপনকারী রোহিঙ্গাদের ঈদের দিন মিয়ানমারে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা ছিল দুরূহ ব্যাপার। বাংলোদেশে স্বাধীনভাবে ঈদ উদযাপন ছিল মিয়ানমারের তুলনায় অনেক শ্রেয়।

উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু-কিশোরদের জন্য বসেছে। তারা নাগরদোলাসহ অন্যান্য আনন্দ-বিনোদন কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে সময় অতিবাহিত করেছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনে বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!