বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ থাকে না রামু-নাইক্ষ্যংছড়িতে

ঝড়বৃষ্টির মৌসুমের শুরুতেই কক্সবাজারের রামু ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় শুরু হয়েছে। সামান্য ঝড়বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো কিছু সময় পর চলে আসে, কখনো অনেক সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুতের এই বিপর্যয় গত কদিনে প্রায় নিয়মে দাঁড়িয়েছে।
ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ–বিভ্রাট হচ্ছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার গ্রাহক দুর্ভোগে পড়েছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত পৌনে দশটা থেকে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় শুরু হয় ঝড়বৃষ্টির প্রকোপ। হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে মেঘ জমে। শুরু হয় দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া। সঙ্গে সঙ্গেই চলে যায় বিদ্যুৎ। পরে বৃষ্টি থামলেও বিদ্যুতের দেখা নেই। এতে করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বাসাবাড়িতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।
রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বোমাংখিল গ্রামের বাসিন্দা ইনজামাম উল হক চৌধুরী বলেন- ঝড়বৃষ্টির কারণে শুক্রবার রাত দশটা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ ঘন্টা গর্জনিয়ায় বিদ্যুৎ ছিল না। এ কারণে বাড়ির ফ্রিজের মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে কয়েক দিন ধরেই বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর চালিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গির আলম বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা হচ্ছে বিদ্যুৎনির্ভর। বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও বিদ্যুৎ ছাড়া সার্বক্ষণিক ব্যবসা চালানো কঠিন। (শুক্র ও শনিবার) বিদ্যুৎ ছিল না। অনেক ক্ষতি হয়েছে।’
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.শফিউল্লাহ বলেন- উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় পিডিবির রামু কার্যালয় থেকে। রামু কার্যালয়ে কর্মরতদের অবহেলার কারণেও অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। নাইক্ষ্যংছড়ি ও আশপাশের বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন আলাদা করলে এই সঙ্কট কেটে যাবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, রামু-নাইক্ষ্যংছড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু ঝড়বৃষ্টিতে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ঝড়বৃষ্টি বা বাতাসে লাইনের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গাছপালা ভেঙে পড়ে। বজ্রপাতে ইনস্যুলেটর ফেটে যায়। তখন লাইনের কোথায় গাছপালা পড়েছে, কোথায় ইনস্যুলেটর ফেটেছে, তা খুঁজে ত্রুটি সারাতে অনেক সময় লাগে। গ্রাহকেরা এতে করে চরম দুর্ভোগের পড়েন। ঝড়-বাদলার মৌসুমে এই দুর্ভোগ প্রায় প্রতিবছরের।
পিডিবির রামু কার্যালয়ের লাইন পরিদর্শক ছিদ্দিক আহমদ বলেন- ঝড়বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ঝড় হলেই গাছ ভেঙে লাইনের ওপর পড়ে। তা ছাড়া এই অঞ্চলে বজ্রপাত বেশি হয়। বজ্রপাতে ইনস্যুলেটর ফেটে যায়। তবে এই সমস্যার সামাধান খুঁজে বের করা হচ্ছে।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!