এক প্রেমিকার দুই প্রেমিক, ত্রিভুজ প্রেমের ভয়ঙ্কর পরিণতি!

এক প্রেমিকার দুই প্রেমিক, ত্রিভুজ প্রেমের ভয়ঙ্কর পরিণতি!

কুমিল্লায় রাশেদ হোসেন (১৫) নামে এক ফ্যাক্টরির শ্রমিককে গলা কেটে হত্যার ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহত রাশেদের একই ফ্যাক্টরির সহকর্মী জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মানিকপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে মো. রাসেল (১৮) এবং একই উপজেলার বানীপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে আরিফ (১৮)।

জিজ্ঞাসাবাদে দুই বন্ধু পুলিশকে জানিয়েছে, এক মেয়ের সঙ্গে দুই ছেলের প্রেমের দ্বন্দ্বের জের ধরেই রাশেদ হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম বলেন, নগরীর গোবিন্দপুর এলাকার মৃত আবদুর রশিদের ছেলে রাশেদ হোসেন সদর দক্ষিণ উপজেলার ফরিদ গ্রুপের ফরিদ নেটস নামে একটি ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের কাজ করতো। রোববার বিকেলে ফ্যাক্টরি থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরেনি রাশেদ। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার ফুলতলী এলাকা থেকে গলা কাটা অবস্থায় রাশেদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রাশেদের বোন নিপা আক্তার বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন। এরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত রাসেল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে এক মেয়ের সঙ্গে রাশেদ হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই মেয়েকে রাসেলও ভালোবাসতো। তাই প্রেমিকার জীবন থেকে রাশেদকে সরিয়ে দেয়ার জন্য রাসেল ও তার বন্ধু আরিফ রোববার বিকেলে ফ্যাক্টরি থেকে কৌশলে রাশেদকে ডেকে নিয়ে যায়। ওই দিন রাতে রাশেদকে গলা কেটে হত্যা করে তারা। ঘটনাস্থল থেকে একটি চাকু, হ্যাকস-ব্লেডসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন, আজিম উল আহসান, নাজমুল আহসান রাফি, ডিআইও-১ মাহবুব মোরশেদ, সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ওসি মামুন অর রশিদ ও জেলা ডিবি পুলিশের ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা প্রমুখ।