ভালোবেসে বিয়ের পর নির্যাতন, স্বামীকে কোপালেন অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী

দশ মাস আগে ভালোবাসার সম্পর্ককে বিয়েতে রুপ দিয়েছিলেন মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন (২৩) ও রোজিনা বেগম (২০)। বিয়ের দুই মাস পরেই সন্তানসম্ভবা হন স্ত্রী। তারপরও নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। উপায়ান্তর না দেখে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়েছেন স্বামীকে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামু উপজেলার গর্জনীয়া ইউনিয়নের দক্ষিন বড়বিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত কামাল উদ্দিনকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে বড়বিল গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ও একই গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে রোজিনা বেগমের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১০ মাস আগে দুজনে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই কামাল তার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন।

অভিযোগ করে রোজিনা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই কামাল তাকে নির্যাতন করতেন। সুখের আশায় চোখ বুজে সব সহ্য করছিলেন তিনি। এখন তিনি সন্তানসম্ভবা। কিন্তু কামাল তা না বুঝে ভারী কাজ করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু আনগত সন্তানের চিন্তা করে তিনি তা মানেননি। এ থেকে কথা কাটাকাটির শুরু হয়। এক পর্যায়ে কামাল তাকে মারধর শুরু করেন। সহ্য করতে না পেরে স্বামীকে ধারালো দা দিয়ে কোপান স্ত্রী।

তবে কামাল তার স্ত্রীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কখনও তিনি রোজিনাকে নির্যতন করেননি। সকালে কাপড়-চোপড় ধুতে বলায় সে তর্ক শুরু করে। এ সময় তাকে একটা থাপ্পড় দেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে দা দিয়ে কোপাতে শুরু করে সে।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুজনের বিয়ের পর থেকে নানা সময় কয়েকটি ঘটনার মিমাংসা হয়েছে। কামাল তার স্ত্রীকে মারধর করতেন এটা সত্য। সহ্য করতে না পেরে রোজিনা তাকে কুপিয়েছে। কামালের মাথায় কোপের তিনটি চিহ্ন রয়েছে।

উপজেলার গর্জনীয়া পুলিশ ফাড়ির কর্মকর্তা (পরিদর্শক) নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার ব্যাপারে জেনেছি। তবে এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।